চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে একই পরিবারের তিন জনসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরপাড়া এলাকার মৃত হামিদ আলীর ছেলে সৈয়দ আহমদের বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় আগুনে দগ্ধ হন ছৈয়দ আহমদের মেয়ে খালেদা বেগম (৪১), তার স্বামী মো: শাহ আলম (৫৪), তাদের ছেলে মো: শাহ নেওয়াজ (২৩), চরপাড়ার মৃত আলী আহমদের ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেন (৫০) ও মৃত আবদুস শুক্কুরের ছেলে মো: হেলাল উদ্দিন (৩৫)।
সাতকানিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল জানান, উত্তর চরপাড়া এলাকার সৈয়দ আহমদের মেয়ে খালেদা বেগম গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসা মেয়ে খালেদা রান্নাবান্না করতে গিয়ে হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনে দগ্ধ হয়। এ সময় তার চিৎকারে তার স্বামী ও ছেলে শাহনেওয়াজ রান্নাঘরে ছুটে এলে তারাও আগুনে দগ্ধ হয়। পরে তাদের আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশী দেলোয়ার ও হেলাল তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও আগুনে দগ্ধ হয়। স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সিলিন্ডারটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। আহতদের উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে গুরুতর আহত চারজনকে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, আমরা আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: আবদুল মজিদ ওসমানী জানান, আগুনে দগ্ধ হওয়া এক নারীসহ পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।