হ্যালো, সাংবাদিক ভাই? ভাই, আমি কম্পিউটার ডিজাইনার জাহিদ হাসান। ঘরে কিছু চাল ছিল। লকডাউনের এ ক’দিন মাকে নিয়ে খেয়েছি। কিন্তু আজ দুই দিন ধরে ঘরে কোনো খাবার নেই। এখন বৃদ্ধ মাকে কী খাওয়াব? এ কথা বলে মুঠোফোনের অপর প্রান্তে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন জাহিদ। তখন তাকে বলা হয়, আচ্ছা জুমার নামাজের পর আসেন। দেখি কি করা যায়।
পরে জাহিদের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের তরুণ সমাজসেবক মো: মেহেদী হাসান সবুজের সাথে। সবুজ জাহিদকে তার কাছে পাঠিয়ে দিতে বলে সবুজের কথামতো বিকেলে জাহিদকে পাঠানো হয় তার কাছে। সবুজ তার হাতে তুলে দেন চাল, ডাল, তেল, আলু, আটা, লবণ ও ডিম ভর্তি একটি বস্তা। মায়ের জন্য বস্তা ভর্তি খাদ্য পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কম্পিউটার ডিজাইনার জাহিদ হাসান।
উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের পিতৃহারা জাহিদ হাসান বলেন, পঁচাত্তর বছর বয়সের মা সুফিয়া বেগমকে নিয়ে আমার বসবাস। কম্পিউটার ডিজাইনের কাজ করি। বাজারে ঘুরে ঘুরে ভিজিটিং কার্ড, পোস্টার, হালখাতা, বিয়ের কার্ড ও শপিং ব্যাগের কাজে আমার সংসার চলে। কঠোর লকডাউনে সব কিছু বন্ধ। তাই আয়ও বন্ধ। গত দুই দিন আগে ঘরের খাবার ফুরিয়েছে। লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারিনি। শুক্রবার দুুপুরে স্থানীয় এক পত্রিকায় ‘পাশে নেই জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানরা’ শিরোনামে সংবাদটি আমি পড়ি। বৃদ্ধা মায়ের জন্য লজ্জা ভুলে ওই পত্রিকার সাংবাদিক ভাইকে ফোন করি। তিনি সবুজ ভাইকে বলে আমার বৃদ্ধা মায়ের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থ্যা করেন। খাবার পেয়ে আমার মা অনেক খুশি হয়েছেন। সবাইকে দোয়াও করেছেন। এ উপকার আমি কোনোদিন ভুলব না।
মেহেদী হাসান সবুজ বলেন, করোনা মহামারীর কারণে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। বাকার বাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের কারো ঘরে খাবার না থাকলে আমার ০১৭৯০-৮৫০৯৬৫ নম্বর মোবাইল ফোনে কল দিলে আমি ব্যক্তিগতভাবে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিবো।
মায়ের জন্য খাদ্য পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জাহিদ
হ্যালো, সাংবাদিক ভাই? ভাই, আমি কম্পিউটার ডিজাইনার জাহিদ হাসান। ঘরে কিছু চাল ছিল। লকডাউনের এ ক’দিন মাকে নিয়ে খেয়েছি। কিন্তু আজ দুই দিন ধরে ঘরে...



