ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ স¤পাদক এইচ এম আশিকুর রহমান রকিকে (২৫) গত রোববার রাত সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধা পৌরসভার পূর্বপাড়ার হালিম বিড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহত রকি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মধ্য কঞ্চিপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার মৃত ছইদার রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আশিকুর রহমান রকি রাতে শহরের পুরনো বাজার এলাকার ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে সোহেল ও প্লাবনকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শহরের পূর্বপাড়ার হালিম বিড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে পৌঁছলে ওঁৎ পেতে থাকা পূর্বপাড়ার নবাব আলীর ছেলে কাঞ্চন ও তার সহযোগীরা রকির ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারাল ছুরি দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় অপর এক মোটরসাইকেলে রকির সাথে আসা আব্দুল মমিন মাস্টার তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রকির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রকিকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাহফুজুর রহমান জানান, নিহত রকির বড় ভাই আতিকুর রহমান সরকার সোমবার বাদি হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় কাঞ্চনকে প্রধান আসামি এবং তিনজনের নামসহ আরো অজ্ঞাত সাত-আটজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: আসিফ সরকার জানান, গত দুই মাস আগে পূর্বপাড়া এলাকার নবাব আলীর ছেলে কাঞ্চনের সাথে রকির মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে বাগি¦তণ্ডা হয়। এরই জেরে উভয়ের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এরই জেরে কাঞ্চন তার দলবলসহ রকির ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অতিসত্তর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম সেলিম পারভেজ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে হত্যাকারী কাঞ্চন ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত কারণসহ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।