পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারসহ ছয়জনকে একটি দুর্নীতি মামলায় গতকাল রোববার জেলা হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। পটুয়াখালীর স্পেশাল জজ আদালতের বিচার রোখসানা পারভীন দুপুরে এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুল হক টিটু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দুদক চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত জুন মাসে সালিসের সুযোগ নিয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যান এক স্কুলশিক্ষার্থীকে বাল্যবিয়ে করে বিতর্কের জন্ম দেন। জেলহাজতে পাঠানো অপর আসামিরা হচ্ছেনÑ বাউফলের তৎকালীন ও বর্তমানের বরিশালের বাখেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: সাইদুর রহমান, ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, আশরাফুল আলম, মেজবাহ উদ্দিন ও ইউপি সচিব মজিবর রহমান।
এরা সবাই ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরির জন্য গঠিত কনকদিয়া ইউনিয়ন কমিটির সদস্য। চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে ওই কমিটির সভাপতি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৬ সালের ২২ ও ২৪ আগস্ট বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ২৩৩ জন সচ্ছল ব্যক্তিকে হতদরিদ্র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ৩০ কেজি করে ছয় হাজার ৯৯০ কেজি চালের মূল্যবাবদ দুই লাখ ৫৯ হাজার ৩০৮ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম করেছেন মর্মে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। পরবর্তী সময়ে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ বাউফল থানায় চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারকে ১ নম্বর আসামি, চাল বিতরণ কার্যক্রমের ট্যাগ অফিসার তৎকালীন বাউফলের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমানকে ৩ নম্বর (বর্তমান বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা)সহ ছয়জনকে আসামি করে বাউফল থানায় অভিযোগপত্র দায়ের করেন তৎকালীন জেলা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মানিক লাল দাস। ওই দিনই বাউফল থানা পুলিশ শাহীন হাওলাদার ও ট্যাগ অফিসার সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করে, পরদিন ২৯ তারিখ তারা আদালত থেকে জামিন পান।
গতকাল অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির ধার্য তারিখে ছয়জন আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত সবার জামিন না মনজুর করে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশসহ মামলাটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য স্পেশাল জজ আদালতে প্রেরণ করেছেন। চলতি বছরের ২৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা মো: ফজলুল হককে (৭০) কনকদিয়া বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করে আলোচনার জন্ম দেন শাহীন হাওলাদার। ওই ঘটনায় ফজলুল হক আদালতে মামলা করেছেন।
এ ছাড়া চলতি বছরের ২৫ জুন এক তরুণ ও আষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া ১৪ বছরের এক কিশোরীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সালিস বৈঠকে বসে শাহীন হাওলাদার নিজেই মেয়েটিকে বিয়ে করে বসেন। অবশ্য পরের দিনই ওই কিশোরী চেয়ারম্যানকে তালাক দেয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত হন শাহীন হাওলাদার।