গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে শুক্রবার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে মধুমতি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের মালামালসহ ২০টি দোকান। আরো ২০-২২টি দোকানে ফাটল ধরেছে। হুমকির মুখে বাজারের কয়েক শত দোকান। এতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিয়পাড়া বাজারের নদী শাসন বাঁধ ভেঙে হঠাৎ নদীতে বিলীন হয়ে যায় ২০টি দোকান। ভোর রাতে হঠাৎ করে নদী শাসনে ফাটল ধরে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যবসায়ীদের মালামাল ও গুদামের পাটসহ ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, মসজিদের মুয়াজিন বাজার মসজিদে আজান দিতে এসে প্রথমেই দেখে বাজারের পশ্চিম পাশের মধুমতি নদীর তীরে অনেক দোকান নেই। দোকানগুলো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাজারের ব্যবসায়ী মো: সিরাজুল ইসলাম জানায়, সকালে বাজারে এসে দেখি আমাদের দোকানপাট নেই। মিষ্টি ব্যবসায়ী শ্বশান বিশ্বাস জানান, রাতে বেচাকেনা করে দোকানে তালা দিয়ে বাড়ি গেছি। সকালে দোকান খুলতে বাজারে এসে দেখি আমার দোকানসহ আশপাশের দোকানগুলো নেই। সব দোকান মধুমতি নদীর করাল গ্রাসে চলে গেছে। মুদি ব্যবসায়ী মো: আলতাব চৌধুরী একইভাবে তার ভাগ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝোরে চোখের পানি ফেলেন। তারা জানায় আগে কোন ধরনের ফাটল দেখেনি তারা। এখানে নদী শাসনের কাজ করা ছিল। এসব ব্যবসায়ী তাদের মালামাল পর্যন্ত বের করে নেয়ার সুুযোগ পর্যন্ত পায়নি। তাদের ভাগ্য নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এ পর্যন্ত মো: জাকির হোসেন, শ্বশান বিশ্বাস, আলতাব চৌধূরী,আওলাদ হোসেন, মো: জিয়া, মো: হায়দার, মো: আজাদ, মো: হারুনার রশিদ, মো: মিলন, মিনাল, মো: সোহেল, হিরোন,শ্যামল সাহা, রশিদ, রমিজ, রনি সাহা, মো: জিয়াউর রহমান, সফিকুল ইসলাম, তারা মিয়া, মো: হায়দার হোসেন, শামীম কাজির দোকানসহ ২০টি দোকান বিলীন হয়েছে।
আরো বিশটি দোকান ফাটল ধরেছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিয়াপাড়া বাজারটির আরো কয়েক শত দোকান হুমকিতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে সম্পূর্ণ বাজার।
খবর পেয়ে খুব ভোরেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রথীন্দ্র নাথ রায়, অফিসার ইনচার্জ মো: মাসুদ রায়হান, ইন্সপেক্টর মো: ফিরোজ আলম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফইজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ভাঙন ঠেকাতে জিয়ো ব্যাগ নদীতে ফেলার চেষ্টা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতীন্দ্র নাথ রায় জানান, দুই কোটি টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভাঙন রোধে আমরা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা করছি যাতে বাজারটির বাকি অংশ রক্ষা করা যায়।