জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে আগ্রহী ছিলেন। আলোচনায় উঠেছিল দলের তরুণ দুই নেতার নাম। তবে সবাইকে ছাপিয়ে এই পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন দলের কো- চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক চুন্নু। গতকাল শনিবার দুপুরে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের পার্টির মহাসচিব পদে তার নাম ঘোষণা করেন।
জি এম কাদেরের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, মহাসচিব পদে মুজিবুল হক চুন্নুর নাম ঘোষণার ক্ষেত্রে জাপার শীর্ষ নেতৃত্বকে নানা কিছু বিবেচনায় নিতে হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান প্রথমে অপেক্ষাকৃত তরুণ কাউকে মহাসচিব পদে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। তরুণদের মধ্যে উঠে এসেছিল সংসদ সদস্য ও দলের অতিরিক্ত মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়ার নাম।
এ পরিস্থিতিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রায় সবাই (কো- চেয়ারম্যানরা) একজোট হয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে মহাসচিব করার পক্ষে পরামর্শ দেন। পরবর্তী সময়ে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের একমাত্র জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সাথে আলাপ করে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যানের এককভাবে যে কাউকে মহাসচিব পদে নিযুক্ত করার ক্ষমতা ছিল।
জাতীয় পার্টির মরহুম চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে মুজিবুল হক চুন্নুর ঘনিষ্ঠতা, দল গোছাতে তার শ্রম ও সংসদে আইন প্রণয়নকাজে তার অংশগ্রহণ ও আলোচনা বিবেচনায় আনা হয়। এ ছাড়াও মহাসচিব পদে চুন্নুর পক্ষে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকেও চেষ্টা-তদবির ছিল এমন গুঞ্জন আছে।
মুজিবুল হক চুন্নু ১৯৫৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার কাজলা গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দলের পাঁচবারের সংসদ সদস্য। এরশাদের সময়ে তিনি ভূমি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় একজন নেতা তিনি।