ফের ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে রাজবাড়ীর পদ্মায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত দেড় শত মিটার শহর রক্ষা বাঁধের স্থায়ী পাইলিং। সরিয়ে নিতে হয়েছে ১৫টি বসতবাড়ি। মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে রাজবাড়ী শহররক্ষা বাঁধ। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত বসতবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয়সহ বহু স্থাপনা।
সরেজমিন দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টার সময় হঠাৎই ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয় রাজবাড়ী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোদার বাজার এলাকায়। আর শহর রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে থাকা বসতবাড়িগুলো ভেঙে অন্য স্থানে সরাতে ব্যস্ত বাসিন্দারা।
গোদার বাজার এলাকার বাসিন্দা সবুজ আহম্মেদ বলেন, গত জুন মাসে ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধের স্থায়ী পাইলিং এর কাজ শেষ হয়। কাজ শেষ হওয়ার একমাস পর থেকে ছয় দফা ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে এক হাজার মিটারেরও বেশি এলাকা। সরিয়ে নিতে হয়েছে অন্তত ২০০ বসতবাড়ি। তাই তদন্তের দাবি উঠেছে কাজের মান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকি নিয়ে।
অপর বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ী শহরকে রক্ষা করার জন্য শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে যে কাজ হয়েছে তার কোনো তদারকি না হওয়ায় আজকের এই ভাঙন। দুর্নীতিবাজরা লাভবান হয়েছে আর ক্ষতি হচ্ছে আমাদের। এখন শহর রক্ষা বাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে হবে। আর বাঁধ ভেঙে গেলে পানি ঢুকে পড়বে শহরে।
গোদার বাজার এলাকার বাসিন্দা হাসিনা পারভীন বলেন, ভাঙনের তীব্রতা এতই বেশি যে আতঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। বসতভিটা পরিবার পরিজন নিয়ে মারাত্মক চিন্তায় আছি। এখন যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গাও নেই। সরকার যদি এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তবে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে রাজবাড়ীবাসীর জন্য।
ভাঙনঝুঁকিতে থাকা গোদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোকসেদুল মোমিন বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গোদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোদার বাজার জামে মসজিদ, গোদার বাজার মাদরাসাসহ শত শত বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, আমরা তিনবার সার্ভে করেছি। তিনবারই দেখেছি পদ্মা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। হঠাৎ করে ভাঙন যে আকার ধারণ করেছে তাতে মনে হচ্ছে জিও ব্যাগে এই ভাঙনরোধ করা সম্ভব নয়। ফেলতে হবে জিও টিউব। জিও টিউব ফেলার জন্য পর্যাপ্ত মেশিন ও শ্রমিক প্রয়োজন। আশা করা যাচ্ছে মঙ্গলবার বিকেল থেকে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে।