গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চাঞ্চল্যকর হাসান আলী (৫০) হত্যা মামলায় আটজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই রায় প্রদান করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আটজন আসামির মধ্যে ছয়জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দু’জন আসামি পলাতক রয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আটজন আসামি হলোÑ পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি মাওলানা মো: নজরুল ইসলাম, পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়াম্যান ও উপজেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি আবু তালেব, আবদুর রউফ, মো: জালাল, গোলাম মোস্তফা, শাহ আলম, ফারুক মিয়া ও মিজানুর রহমান। এর মধ্যে আবু তালেব ও মিজানুর রহমান পলাতক রয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের সবার বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
গতকাল দুপুরে রায় প্রদানের বিয়ষটি নিশ্চিত করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মদ। তিনি জানান, আটজন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড ছাড়াও প্রত্যেকের সাত বছর করে কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
একই মামলার অপর আটজন আসামিকে খালাস দেন আদালত। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, এম এ মালেক, লুৎফর রহমান, আবু বক্কর, রফিকুল ইসলাম, আবদুর রহিম, আবু বকর মিয়া ও শফিকুল ইসলাম। খালাসপ্রাপ্তদের বাড়ি পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে পলাশবাড়ী আর্দশ (ডিগ্রি) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পলাশবাড়ী উপজেলার সুইগ্রাম ও আমবাড়ী গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ওই বছরের ২২ আগস্ট পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের হাসান আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন আসামিরা। আক্রমণে হাসান আলী গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় একই সালের ২৪ আগস্ট নিহতের বড়ভাই আবুল কাশেম বাদি হয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম, পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়াম্যান ও উপজেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি আবু তালেবসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে বাবর আলী নামে এক আসামি মারা যান। বাকি ১৬ জনের মধ্যে আটজনের অমৃত্যু কারাদণ্ড ও অপর আটজনকে খালাস দেন আদালত। দীর্ঘ ২২ বছর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
এ দিকে আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিরাজুল ইসলাম, আবদুল হালিম প্রমাণিক, শিশির মনির। আসামি পক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বলেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন। উচ্চ আদালতে গেলে তারা ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করেন।
গাইবান্ধায় হাসান হত্যা মামলায় ৮ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চাঞ্চল্যকর হাসান আলী (৫০) হত্যা মামলায় আটজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন...



