বিশ^ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. হার্টইউগ শ্যাফার গত বুধবার কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে পাদুকা ব্যবসাগুচ্ছের ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তার সাথে ছিলেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. নমিতা হালদার, বিশ^ব্যাংক কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস মার্সি মিয়াং টেম্বন, পিকেএসএফ অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফজলুল কাদেরসহ সরকার এবং বিশ^ব্যাংক ও পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিনিধিরা।
বিশ^ব্যাংক এবং পিকেএসএফের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্টের (এসইপি) মাধ্যমে পিকেএসএফ ভৈরবে পাদুকা প্রস্তুতকারী ব্যবসাগুচ্ছের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করে আসছে। ব্যবসাগুচ্ছে ১০ হাজারের বেশি পাদুকা প্রস্তুতকারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছে যারা প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ জোড়া পাদুকা তৈরি করে থাকে। ভৈরবের পাদুকা প্রস্তুতকারী এই ব্যবসাগুচ্ছটি ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছে।
মি. হার্টইউগ শ্যাফারসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা ভৈরবের পাদুকা প্রস্তুতকারী ক্ষুদ্র উদ্যোগকের স্থানীয়ভাবে কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এসইপি এর অর্থায়নে নির্মিত সাধারণ সেবা প্রদানকারী সার্ভিস সেন্টার পরিদর্শন করেন। এসইপির সহযোগিতা প্রাপ্ত অন্যান্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সাথেও তারা মতবিনিময় করেন।
পাদুকা-প্রস্তুতকারী ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোর টেকসই অগ্রগতিতে এসইপি-এর ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মি. হার্টইউগ শ্যাফার বলেন, ‘এটা সত্যিই দেখতে ভালো লাগছে যে কিভাবে একটি কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ভালো কিছু করা যায়।’
পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. নমিতা হালদার বলেন, ‘এসইপি প্রকল্পের আওতায় স্বল্প আয়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প পরিমাণ উৎপাদনের দুষ্টচক্র থেকে বের করে আনতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন বা ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্সিং ছাড়াও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভ্যালু চেইন সুসংহতকরণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা প্রদান, যা এসইপি প্রকল্পের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এসইপিএর আওতাধীন সব উপ-প্রকল্প এলাকায় নারীদের জন্য শোভন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পিকেএসএফ কাজ করছে যার দৃশ্যমান উদাহরণ আমরা এই ভৈরবে দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে যে সব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য অর্থায়ন প্রক্রিয়া আমরা সহজতর করেছি। আমরা শুধুমাত্র অর্থায়নে সীমাবদ্ধ না থেকে কর্মক্ষেত্রের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্রতা দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে চাই। এটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক যে কিভাবে একটি সাধারণ সেবা প্রদানের জন্য নির্মিত সার্ভিস সেন্টার একটি ব্যবসায়িক কমিউনিটিকে আধুনিক কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। আমরা শোভন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি টেকসই ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। শুধুমাত্র অর্থায়ন সব সমস্যার সমাধান নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিশ^ব্যাংক ও পিকেএসএফের মতো কাজ করার অঙ্গীকার ও অংশীদারিত্ব।’
নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টা ও উদ্দীপনার প্রশংসা করে মিস মার্সি মিয়াং টেম্বন বলেন, আমি সেসব মহিলাদের সাথে সাক্ষাৎ করে খুবই আনন্দিত যারা শুধুমাত্র নিজেদের জন্যই কাজ করছে না; বরং অন্য নারীদের জন্যও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। সেই আলোকে এসইপি প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পিকেএসএফ দেশব্যাপী এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি চমৎকার কাজ করছে।’