খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার জারুলছড়িতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমেক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এ সময় সংগঠনটির চারটি ব্যারাক, দু’টি ডিউটি পোস্ট ও একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি করেছে সেনাবাহিনী।
গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের দীঘিনালা জোনের একদল সেনাসদস্য এ অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার (জিটুআই) মেজর মো: জাহিদ হাসান বলেন, তারা ইউপিডিএফের চারটি ব্যারাক, দু’টি ডিউটি পোস্ট ও একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ সদস্যরা সেখানে অস্থায়ী প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ করে আসছিল। এ সময় ইউপিডিএফ ও সেনাসদস্যদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয় বলেও দাবি করেন এই সেনাকর্মকর্তা।
প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে সেনাসদস্যরা তাদের প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম ও নথি জব্দ করেছে বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের জনৈক কর্মকতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার ভোরে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের আওতাধীন দিঘিনালা জোনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা জারুলছড়ি এলাকায় প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালায়। সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা এলোপাথারী গুলি চালালে সেনাবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাসী চালিয়ে বিপুল সংখ্যক চাঁদা আদায়ের রশিদ ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্বার করার পর চারটি সামরিক ব্যারাক, দুটি ডিউটি ব্যারাক ও অস্ত্রাগার ধবংস করা হয়।
বান্দরবানে সেনা কর্মকর্তা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
বান্দরবান সংবাদদাতা জানান, বান্দরবানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।
গতকাল শনিবার বেলা ৩টায় শহরের বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের জেলার সহসভাপতি ক্যাপ্টেন (অব:) তারু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি এম রুহুল আমিন, নুরুল আলম, আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, শান্তিচুক্তির পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে হত্যা অপহরণ চাঁদাবাজি বন্ধ নেই। একই সাথে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং সেনা সদস্যদের হত্যা দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আটক করে কঠোর শাস্তি দেয়া না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সভা শেষে নিহত সেনা সদস্য সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো: হাবিবুর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।