রাঙ্গামাটির কাউখালীতে বিশেষ অভিযানে ইউপিডিএফের সক্রিয় চাঁদা কালেক্টর রাজ্যমনি তঞ্চঙ্গ্যাকে (৫৪) আটক করেছে সেনাবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় কাউখালীর সীমান্তবর্তী রাঙ্গুনিয়া থানার ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর ঘাগড়া নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আটক করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি শর্টগান, একটি রামদা, একটি মোবাইল ফোন, চাঁদা আদায়ের রসিদ বই, টাকা রাখার ব্যাগ, নগদ পাঁচ হাজার ৮৫০ টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ১৬ জন বিশেষ ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
আটক রাজ্যমনি তঞ্চঙ্গ্যা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে সে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফের চাঁদা আদায়কারী ও সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। চাঁদার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা করে সে অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে তা দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে পাঠিয়ে দিত।
জিজ্ঞাসাবাদের সে আরো জানায়, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির পর শান্তিবাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও সে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে সশস্ত্র অবস্থায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ১৯৯৮ ইউপিডিএফে যোগদান করে চাঁদা আদায়, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে ফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ও পাশের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর এলাকার সশস্ত্র চাঁদা কালেক্টর হিসেবে দায়িত্বরত আছে। এ ছাড়াও সে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, যা তাকে চাঁদা সংগ্রহ ও ইউপিডিএফকে সব অভিযান পরিচালনা কার্যক্রমে সহায়তা করত। তার ছোট ভাই চরণসিং তঞ্চঙ্গ্যা ইউপিডিএফের আঞ্চলিক শাখার পরিচালক ছিল এবং ক্যাপ্টেন গাজী হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।
পরে তাকে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশে ন্যস্ত করে সেনাবাহিনী। রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মাহবুব মিল্কি বলেন, আটককৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।