চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গত সোমবার ইউপি নির্বাচন চলাকালে নলুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর মরফলা বোর্ড অফিস ভোটকেন্দ্র এলাকায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্কুলশিক্ষার্থী মো: তাসিব এবং বাজালিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভোটকেন্দ্র এলাকায় গুলিতে আবদুস শুক্কুর নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গুলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। গত মঙ্গলবার বিকেলে খাগরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বন্দুকসহ জসীম উদ্দিন নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ দিকে নির্বাচনের দিন খাগরিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে গুলিবর্ষণকারী যুবকদের পরিচয় মিলেছে। এদের অনেকের বাড়ি খাগরিয়া ইউনিয়নে এবং অধিকাংশই খাগরিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থী মো: আকতার হোসেনের লোক বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে খাগরিয়া এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের দিন যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর গুলিবর্ষণ করে এবং যাদের ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে তাদের কয়েকজন হলো, শওকত, নাছির, সাকিব ও নিশান। এখনো তাদেরকে নৌকার প্রার্থী আকতার হোসেন চেয়ারম্যানের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ছাড়া, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোনাকানিয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো: জসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারা এবং ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগে এনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সমাবেশ করেছে বিদ্রোহী প্রার্থী মো: সেলিম উদ্দিন চৌধুরী।
একই সময়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাঞ্চনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থী রমজান আলীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আব্বাস উদ্দীন (৩২), কামাল উদ্দিন (৪০) ও আবু তৈয়ব (৪৯) গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাঞ্চনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ফরহাদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আবার ভোটের দিন আগের রাতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথি চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গত সোমবার তিনি বাদি হয়ে খাগরিয়া ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জসীম উদ্দীনসহ ১০ জনকে এজাহার নামীয় এবং ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ দিকে, নির্বাচনের দিন বাজালিয়া ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত আবদুস শুক্কুরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলাম জানান, শুক্কুরের লাশ ফটিকছড়িতে দাফন করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আর নলুয়ায় ভোটকেন্দ্র দখল করতে এসে নৌকার পক্ষের লোকজনের দায়ের কোপে নিহত শিক্ষার্থী তাসিফের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। নিহতের পিতা জসীম উদ্দিন জানান, মামলার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল জানান, নলুয়ায় শিশু তাসিফ ও বাজালিয়ায় শুক্কুর নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তাদের পরিবার চাইলে মামলা দায়ের করতে পারবে। ভোটের দিন বিভিন্ন ইউনিয়নে গোলাগুলির ও সহিংসতার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলা দায়ের করা হবে। ভোটের দিন সহিংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খাগরিয়ায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জসীম উদ্দিন নামের একজনের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, ছোরা, দা ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অস্ত্রটি খাগরিয়ায় ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে। ভোটের দিন খাগরিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গোলাগুলির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাতকানিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় মামলা হয়নি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গত সোমবার ইউপি নির্বাচন চলাকালে নলুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর মরফলা বোর্ড অফিস ভোটকেন্দ্র এলাকায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্কুলশিক্ষার্থী মো: তাসিব এবং বাজালিয়া ২...



