বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, আজকের এই যে বাংলাদেশ এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি। কথায় কথায় জয় বাংলা বলি। মুজিব কোট পরে জয়বাংলা বলে দিনের বেলায়ই মানুষের কাছ থেকে ছিনতাই করে, আর মেয়েদেরকে ঘর থেকে ছিনতাই করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করাই এখন তাদের কাজ। তিনি আরো বলেন, ৭০ সালের নির্বাচনে আমরা বঙ্গবন্ধুকে দুই হাতে ভোট দিয়েছিলাম। আমরা ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর দলকে ভোট দিয়েছিলাম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর দলকে ভোট দিয়েছিলাম। তাহলে আজকে কেন সংখ্যালঘুরা নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে এ ভোট দিয়ে আমার কি লাভ? আর যদি আমরা সংখ্যালঘুরা ভোট না দেই তাহলে আপনাদের বিবেচনা করতে হবে রাজনীতির খেলায় আপনারা কোথায় গিয়ে দাঁড়ান। সেদিন অনেকেই দেশে থাকতে পারবেন না। কিন্তু আমরা তা চাই না।
গত শুক্রবার বিকালে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী চন্ডী বৈদ্যের বাড়ির আসন ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় সাতকানিয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হিন্দুর বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের একজন জড়িত রয়েছে। যারা ঘটনার আগে এলাকায় গিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে দোকানপাট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে পুরো এলাকায় মহড়া দিয়েছে, তারাই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত। আপনারা অনেকেই তাদের চিনেন। তাদের সাথে রাজনীতি করেন অথবা তারা আপনাদের সাথে থেকেই দিনের বেলায় জয় বাংলা বলে আর রাতের বেলা মানুষের জমি দখল করে অথবা মানুষের ঘরে আগুন দেয়। এরা সন্ত্রাসী হিসাবে ব্যবহার হয়। সাতকানিয়ার কেঁওচিয়ায় চন্ডী বৈদ্যের বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এখন বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত রাজনীতিতে নাই। এরা ঘরে ঢুকে গেছে। এখন নির্বাচনে আছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী। প্রধানমন্ত্রী মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, তারপরও আপনাদের কেন ভাবতে হয় জনগণ আপনাদের ভোট দিবে কিনা। সামনের দুই বছর পর নির্বাচন। ভোট দেয়া যেমন আমার অধিকার তেমনি ভোট না দেয়াও আমার অধিকার।
সাতকানিয়া উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ সাইফুদ্দিন ছিদ্দিকী, শেখর দত্ত, তাপস কান্তি দে, কাঞ্চন আচার্য্য, চেয়ারম্যান ওছমান আলী, মাস্টার মো. ইউনুচ, সুজন কান্তি দাশ, রমা বৈদ্য, সরত জৌতি চাকমা, শ্যামল দে, রঞ্জন আচার্য্য, সৈকত পালিত, ইঞ্জিনিয়ার লিখন দাশ ও রুবেল পালিত প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমরা ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারের হত্যাকাণ্ড দেখেছি। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে দায়ী কারা যারা সরকারের ভেতরে ছিল এবং সরকারের বাইরে ছিল একজোট হয়ে তারা বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছে। বঙ্গবন্ধু খুন হওয়ার তিন দিন আগে বঙ্গবন্ধুর পছন্দের পাঙ্গাস মাছ রান্না করে নিয়ে মোস্তাক সাহেব তার বাড়ি থেকে বঙ্গভবনে এসেছিলেন। মেজর ডালিম যিনি বঙ্গবন্ধুকে খুনের ঘটনা প্রচার করেছিলেন তার আগের দিন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ কামাল মিলে এক টেবিলে বসে বঙ্গভবনে ভাত খেয়েছিল। এই বাস্তবতায় আমরা দেখি তাদের হাতেই বঙ্গবন্ধু খুন হয়েছিলেন। আর এই সুযোগ কারা নিয়েছেন তা আমরা জানি। আমরা ৭৫ সালের আগে যেদিকে তাকাতাম সবদিকে দেখতে পেতাম সবার গায়ে মুজিব কোট। আর বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর দেখি মুজিব কোট আর নাই সবটাই হয়ে গেছে সাফারি কোট। এ অবস্থায় আজকের বাংলাদেশ। আজকে যারা এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা কেউ বাইরের লোক নন। তাদের টর্চ লাইট দিয়ে খোঁজার দরকার নাই। তারা আমার ভাই বিপ্লব বড়–য়ার নাম অহরহ বিক্রি করছে। কিন্তু আমি আপনাদের বলতে চাই, বিপ্লব বড়–য়া কোনো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা বা প্রশ্রয়দাতা নয়। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে যে কয়েকজন আদর্শিক নেতা আছেন তাদের মধ্যে বিপ্লব ও নওফেল আদর্শকে ধারণ করেন। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার কিছুদিন পরও যখন সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয় তখন আমরা সবাই একজোটে বলেছি এসব বিএনপি-জামায়াত করেছে। আজকে কিন্তু আমরা সেই কথা বলতে পারি না, কারণ এসব ঘটনায় বর্তমানে তারাও আছে, এরাও আছে। একজোট হয়ে তারা এসব ঘটনা করছে।
চন্ডী বৈদ্যের বাড়ির আসন ঘরে অগ্নিসংযোগকারীরা আপনাদের অনেকের সাথে রাজনীতি করে। তারা খন্দকার মোস্তাক ও মেজর ডালিমের অনুসারী। তারা আপনাদের ভেতরে থেকেই এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। প্রশাসনকে অনুরোধ করব ঘটনাস্থল থেকে পেট্রোল-অকটেনের বোতল উদ্ধার করলে হবে না, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করুন। তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী চন্ডী বৈদ্যের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে একটি ঘর পুড়িয়ে দেয়।
সংখ্যালঘুরা ভোট না দিলে আপনাদের অনেকেই দেশে থাকতে পারবেন না : রানা দাশ গুপ্ত
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, আজকের এই যে বাংলাদেশ এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশের জন্য আমরা...



