নওগাঁর বদলগাছীতে ৮ বছর আগে আলোচিত তিন খুনের মামলায় ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলার অপর ১০ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-দ্বিতীয় আদালতের বিচারক হাসান মাহমুদুল ইসলাম এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন পাওয়া আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ৮ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, বদলগাছীর উজালপুর গ্রামের সাইদুল, আইজুল হক, হেলাল হোসেন, জালাল হোসেন, বেলাল হোসেন, জায়েদ, আবুল হোসেন, মোস্তফা ও সোহাগ আলী। এদের মধ্যে সাইদুল, জায়েদ ও সোহাগ পলাতক রয়েছেন। অন্যরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া একই গ্রামের মরহুম মছিরের ছেলে মো: হাসেম আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ-দ্বিতীয় আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: হাফিজার রহমান। ২০১৪ সালের ৬ জুন জেলার বদলগাছী উপজেলার উজালপুর গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদুল ইসলাম দুলু, আমজাদ হোসেন ও আবদুল ওয়াদুদকে হত্যা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলী মো: মোজাহার আলী বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে করে ন্যায়বিচার হয়েছে বলে মনে করি। এখন তা কার্যকর দ্রুত করা হোক এমনটাই প্রত্যাশা করছি। আসামি পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবার উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।
২০১৪ সালের জমিজমাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বদলগাছী উপজেলার উজালপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম দুলু, আমজাদ হোসেন ও আবদুল ওয়াদুদ গংদের সাথে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে ওই বছরের ৬ জুন বিকেল ৩টার দিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে একই গ্রামের হাসেম আলী, ছাইদুল, আইজুল হক, জালাল হোসেন, হেলাল হোসেন, বেলাল, জায়েদ গংরা হামলা চালিয়ে শহিদুল ইসলাম দুলু, আমজাদ ও আবদুল ওয়াদুদের পর দিন ভোরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শহিদুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন বাদী ২২ জনকে আসামি করে মামলার পর পুলিশ সাতজনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। ২৪ জনকে আসামি করা হলে চার্জশীটে দু’জনের নাম বাদ দেয়া হয়। অন্য দিকে মারা যান আরো দু’জন। আর ১০জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।