ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রতিপক্ষের হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন। উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জানদি গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো: আলিমুজ্জামান খবর পেয়ে গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার জানদী গ্রামের মৃত মতিউর রহমান শরীফের ছেলে সোলায়মান শরীফ (৪০) ও কালাম মাতুব্বরের ছেলে কামরুল মাতুব্বর (৩২)। আহতের নাম আমিনুদ্দীন (৪০)। তিনি জানদি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে। জানা যায়, স্থানীয় আলতাফ মাতুব্বরের সমর্থক জামাল শেখের সাথে ইমারত মাতুব্বরের সমর্থক কামরুলের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে হামলার পরিকল্পনা হয় বলে জানা যায়। স্থানীয়রা জানান, রাতে বাজারে তাস খেলে একটি মোটরসাইকেলে পোদ্দার বাজারের দিক থেকে তিনজন বাড়ি ফিরছিল। বাজার এলাকা পার হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তাদের মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে থামিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। হামলাকারীরা আগে থেকেই সেখানে ওৎ পেতেছিল। জামাল শেখ, আলতাফ মাতবর, সুমন শেখ, শাহীন চৌধুরী, আবুল খায়ের মুন্সি, আজিজুল শরীফসহ তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এতে অংশ নেয় বলে নিহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
এদিকে, এ হামলায় ঘটনাস্থলেই সোলায়মান শরীফ নিহত হন। গুরুতর আহত অপর দুজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত কামরুল মাতুব্বরকে ফরিদপুরে প্রেরণ করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) ফাহিমা কাদের চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো: আলিমুজ্জামান এবং তিনি ঘটনাস্থলে যান। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সেলিম রেজা বলেন, দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি মোতায়েন করা হয়েছে।