পাল্টে গেছে প্রতারণার কৌশল। প্রতারকরা বিভিন্নভাবে মানুষকে ঠকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। কেউ কেউ আবার একইভাবে বারবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। রাজধানীসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে এ প্রতারক চক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নতুন কৌশলে কাজ করছে এসব চক্র।
ভুক্তভোগীরা জানান, মধ্যবিত্তরা বেশির ভাগ ছোট ছোট প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ঝামেলার ভয়ে তারা আইনের আশ্রয়ও নিতে আগ্রহী নন। প্রতারণার অভিযোগে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে প্রতারক চক্র। কিন্তু কিছু দিন জেলে থাকার পর তারা আবার জামিনে বের হয়ে একই কাজে জড়িয়ে যায়। নাম পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে চলছে প্রতারক চক্র।
এমনই একজন ভুক্তভোগী পুরান ঢাকার ওয়াইজ ঘাটের শাহজাদী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী সাঈদ হোসেন। তার ন্যাশনাল আইডি কার্ড ব্যবহার করে অন্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।
ভুক্তভোগী সাঈদ জানান, তার ন্যাশনাল আইডিকার্ড ব্যবহার করে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে প্রতারক চক্র। অথচ এঘটনার তিনি কিছুই জানতে পারেননি। খেপুপাড়া থানা থেকে এক এসআই তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এ ব্যাপারে তার নামে থানায় একটি অভিযোগ রয়েছে বলে ওই পুলিশ সদস্য জানান।
ব্যবসায়ী সাঈদ খোঁজখবর নিয়ে দেখেন তিনি প্রতারণার কবলে পড়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি গত ৮ এপ্রিল রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (যার জিডি নম্বর ৩৭৫)।
এ বিষয়ে খেপুপাড়া সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। আমাদের কাছে প্রতারক চক্র যে চেক দিয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে চেকের স্বাক্ষর এবং আইডি কার্ডের ছবির সাথে মিল পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা টাকা পার্টিকে দিয়ে দিয়েছি। সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার থাকে না। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এখন প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।
কিন্তু ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাঈদ জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্ত করে যে ছবি পাওয়া গেছে সেই ছবির সাথে তার আইডি কার্ডের কোনো মিল নেই, তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা।
অন্য এক ভুক্তভোগী অ্যাকাউন্ট হোল্ডার মজিবুর রহমান চুন্নু জানান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৩ এপ্রিল প্রতারক চক্র পাঁচ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে। তারও আইডি কার্ডের সাথে প্রতারকের ছবি মিল পাওয়া যায়নি। কিন্তু ব্যাংক কিভাবে টাকা দিলো বুঝে উঠতে পারছেন না।
অপর এক ভুক্তভোগী শামিমা জানান, ইমরোজ নামে অনলাইন বিজনেস পেজ থেকে তিনি একটি বিদেশী কসমেটিকের অর্ডার করেন। এ জন্য তাকে বিকাশে টাকা দিতে বলা হয়। বসুন্ধরা শপিংমলের ঠিকানা থাকায় তিনি বিশ্বাস করে পাঠানো বিকাশ নম্বরে (০১৮১৩০৯৯৫১৯) ওই কসমেটিকের জন্য টাকা পাঠান। কিন্তু প্রায় দুই মাস হলেও তাকে আর সেই কসমেটিকস দেয়া হচ্ছে না। এমনকি তিনি বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ করছে না। এভাবেই প্রতিদিনই কেউ না কেউ প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
নতুন কৌশলে সক্রিয় প্রতারক চক্র
পাল্টে গেছে প্রতারণার কৌশল। প্রতারকরা বিভিন্নভাবে মানুষকে ঠকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। কেউ কেউ আবার একইভাবে বারবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। রাজধানীসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে...



