বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মানুষ গুম ও গণতন্ত্র হত্যাকারী দানবীয় শক্তিকে পরাজিত করতে আমাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, দেশকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে, তারাই আমাদের শত্রু। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে আমাদের সবাইকে এ শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সবাইকে দায়িত্ববান হয়ে এমন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যাতে এ দানবীয় শক্তি নির্মূল করা যায়। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যারা অস্বীকার করে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালায় তারাই স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি। এ অপশক্তি মানুষের অধিকার হরণ করেছে, দেশকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
গাজীপুর মহানগরীর নগপাড়ায় একটি কনভেনশন সেন্টারে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, বেনজির আহমেদ টিটু, সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর খান, সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপি নেতা মেয়র মজিবুর রহমান, হুমায়ূন কবীর মাস্টার, শাহজাহান ফকির, শাহ রিয়াজুল হান্নান, ভিপি হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট কাজী খান, জয়নাল আবেদীন রিজভী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা, জেলা স্বচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাসিবুর রহমান মুন্না, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে সবচেয়ে প্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপি জনগণের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ বিপরীত কথা বলে। তারা গণতন্ত্র ধ্বংস করে মানুষের অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়টা খুব খারাপ, ভয়াভহ অগণতান্ত্রিক একটা সরকার আমাদের ওপর চেপে বসেছে। বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এখন আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশেনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক রাখা হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক জিয়াকেও নির্বাসনে রেখেছে এ সরকার।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোভিড টিকা ক্রয়ে ২৩ হাজার কোটি টাকার লুটপাট করা হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী-চৌরাস্তা সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। যা পৃথিবীর কোন দেশে নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সালমান এফ রহমানের ফাঁস হওয়া ফোনালাপে সজীব ওয়াজেদ জয় ও বিচার বিভাগের কথা এসেছে। কী কথা এসেছে তদন্তের মাধ্যমে জনগণের সামনে আসুক সেজন্য আমরা দুদকে চিঠি দিয়েছি।
গাজীপুর আন্দোলনের ঘাঁটি হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, একটা ভয়াবহ গণতন্ত্র বিরোধী সরকার জনগণের মাথার ওপর চেপে বসে আছে। জনগণকে ন্যূনতম গণতন্ত্র চর্চাও করতে দেয় না। দেশ ও জনগণের স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, ভোটবিহীন বায়বীয় এই সরকারকে রুখতে হবে।
এর আগে তিনি জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বাধন করেন। এ সময় মাইকে জাতীয় ও দলীয় সঙ্গিত পরিবেশন করা হয়।
দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা ডা: মাজহারুল আলম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত হোসেন সরকার, জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মোতালেব, জিএস সুরুজ আহমেদ, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, সরকার জাভেদ আহমেদ সুমন, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, আব্দুস সালাম শামীম, জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শাহীন, আবু তাহের মুসল্লি, ডা: সফিকুল ইসলাম, ভাওয়াল গড় ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম, মহনগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভাট, নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
গণফোরামের ইফতারে ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গণফোরামের উদ্যোগে ইফতারপূর্ব এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, এই ফ্যাসিবাদকে রুখে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণœ রাখতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য আজকে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি, আমাদের সবার দায়িত্ব হচ্ছে একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই দেশকে এই ফ্যাসিবাদীর হাত থেকে রক্ষা করে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা, দেশের মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে দেয়া এবং নিরপেক্ষ একটি সরকারের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করা। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গণতন্ত্রকে উদ্ধার করি।
২০ দলীয় জোটের বাইরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের এই ইফতারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জাসদ (নুরুল আম্বিয়া), নাগরিক ঐক্য, বিকল্পধারাসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা এই আলোচনায় অংশ নেন। রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে ওয়াটারফল রেস্তোরাঁয় ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, জনগণ পরিষ্কারভাবে জানতে চায় কোনো গোঁজামিল নয়, আমরা কী করতে চাই, কিভাবে করতে চাই তা পরিষ্কারভাবে বলতে হবে। আসলে আমরা মাঠে নামলে জনগণ মাঠে নামবে। আমরা একাত্তর সনে জনযুদ্ধ করেছি। এবার হবে গণযুদ্ধ। এই যুদ্ধের মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায় করতে হবে। আমাদের এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলন করছি।