ভ্রমণপ্রিয় বাংলাদেশীয়রা ছুটি পেলেই ছুটে চলেন প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে দেশের সেরা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অন্যতম বান্দরবানেও প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক হোটেল নিজের ক্লান্তি সরিয়ে ফেলতে। প্রকৃতির অপরূপ এই পর্যটন স্পটে যুক্ত হয়েছে নতুন আকর্ষণ।
গোল্ডেন টেম্পল বৌদ্ধবিহার। স্বর্ণিল আভাযুক্ত আকর্ষণীয় এই মন্দিরটি এখন আলোকিত করে তুলেছে পুরো বান্দরবানকে। অপরূপ কারুকার্যমণ্ডিত অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন এ মন্দিরটিতে রয়েছে পদ্ম ফুলের উপর দণ্ডায়মান দেশের সর্ববৃহৎ বুদ্ধমূর্তি। উচ্চতায় এটি ৫৫ ফুট। সেই সাথে এখানে রয়েছে বড় বিহার, ড্রাগন, সিংহ ও হাতির মূর্তি। বিহারটিতে কিছুদিনের মধ্যে বসানো হবে ৬ ও ৪ ফুট উচ্চতার তিনটি পিতলের বুদ্ধমূর্তি। শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বান্দরবান কেরানিরহাট সড়কসংলগ্ন যৌথ খামার ও কানাপাড়ার মাঝামাঝি পাহাড়ের উপর নির্মিত স্বর্ণাভাব দণ্ডায়মান মূর্তিটি পুরো এলাকাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলেছে। সেই সাথে বৌদ্ধ বিহারটিকে দিয়েছে এক অনন্য রূপ।
বান্দরবান সংসদীয় আসন থেকে ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং তার নিজ জায়গায় এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেছেন। বৌদ্ধ বিহারটি এখন শুধু বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কাছেই নয়, এটি এখন পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২০০ ফুট উচ্চতায় এই বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। এ বিহারটির নাম গোল্ডেন টেম্পল বৌদ্ধবিহার হলেও স্থানীয় মারমা ভাষায় এটি ‘শৈ ফারা ক্যং’ নামে পরিচিত। দেশের বহুসংখ্যক বৌদ্ধ মূর্তি ও বিহারের নির্মাতা পটুয়াখালীর খিং মং রাখাইন ও চকরিয়ার হারবাং এলাকার মংহ্লা রাখাইন ও তার ভাই হ্লামং রাখাইন মিলে বৌদ্ধ বিহারটির মূর্তি ও স্থাপনাগুলো নির্মাণ করেছেন। মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের নির্মাণশৈলীর আদলে এদেশে বহুসংখ্যক বৌদ্ধবিহার ও মূর্তি নির্মাণ করেছেন তারা। মংহ্লা রাখাইন জানান, উখিয়ায় শোয়া অবস্থায় যে বুদ্ধমূর্তি রয়েছে তার দৈর্ঘ্য ১২৫ ফুট অন্যদিকে পটিয়ায় বুদ্ধমূর্তিটি শোয়া অবস্থায় প্রায় ১০০ ফুট। এ ছাড়া পদ্মাসনে বসা বান্দরবানের তাইংখালিতে যে মূর্তিটি রয়েছে তার উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এছাড়া খাগড়াছড়িতে যে মূর্তিটি রয়েছে সেটি বৌদ্ধ মন্দিরের ওপর বসানো। এটিও প্রায় ৫৫ ফুট। অন্যদিকে বান্দরবানের গোল্ডেন টেম্পল বৌদ্ধ বিহারে যে মূর্তিটি বানানো হয়েছে, তা মাটি থেকে উচ্চতা ৫৫ ফুট। পদ্ম ফুলের উপর দণ্ডায়মান হিসেবে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মূর্তি। আর এই মূর্তিটিকে ঘিরে বৌদ্ধবিহার এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০০টির বেশি বৌদ্ধ মূর্তি বানানো মংহ্লা রাখাইন জানান, তার বানানো সবচেয়ে সুন্দর মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম এই গোল্ডেন টেম্পল বৌদ্ধবিহার। এটি শুধু পুণ্য লাভের স্থানই হবে না, সেই সাথে পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বৌদ্ধ বিহারটির সম্পর্কে বলতে গিয়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি জানিয়েছেন, তার বাবা লাল মোহন বাহাদুরের মৃত্যুর পর ওই এলাকায় একটি জাদি নির্মাণের স্বপ্ন ছিল। জায়গা কিছু কম থাকায় পরে আরো কিছু জায়গা কিনে সেখানে জাদি নির্মাণের সময় একটি বড় বৌদ্ধ মূর্তি নির্মাণ করার ইচ্ছা জাগে। আর বুদ্ধমূর্তিটি নির্মাণ করতে গিয়ে বিহারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এখন এটি একটি পরিপূর্ণ বৌদ্ধবিহার। একদিকে পূণ্য লাভ অন্যদিকে বান্দরবানের সৌন্দর্যকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে স্বপ্ন থেকে এ বাস্তবায়ন বলে বীরবাহাদুর জানিয়েছেন। এদিকে এবারের ঈদের টানা ছুটির পাশাপাশি। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকায় এবার বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ঢল নেমেছে বান্দরবানে। আর পর্যটকদের কাছে এবার বান্দরবানের নতুন আকর্ষণই হলো স্বর্ণিল আভায় আলোকিত গোল্ডেন টেম্পল বৌদ্ধবিহার।