সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসে ঘটনাস্থলে মারা গেছেন সাবেক এক শিক্ষক। গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের এক ভাই। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের বখতিয়ারঘাট চক্রবর্তী পাড়া গ্রামে। নিহত অপু পাল চক্রবর্তী পাড়া গ্রামের নকুল পালের ছেলে। তিনি উপজেলার নিশ্চিন্ত এলাকার আইডিয়াল একাডেমির সাবেক শিক্ষক ও এনজিও সংস্থা আশায় কর্মরত বলে জানা যায়।
এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ চলছে সিলেটসহ গোলাপগঞ্জ উপজেলায়। সেই সাথে দমকা হাওয়াও বইছে। শুক্রবার মধ্য রাতে প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নকুল পালের দুই ছেলে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় পাশেই বিশাল টিলা ধসে তাদের আধাপাকা ঘর চাপা পড়ে। ওই সময় ঘুমন্ত অবস্থায় মাটিতে তলিয়ে যায় অপু পালসহ তার সহোদর। সংবাদ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে অপু পালকে মৃত অবস্থায় ও তার সহোদরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহতকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে প্রবল বর্ষণে নিহতের বাড়ির পাশে আরো একটি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া একই ইউপির নিলামপাড়া গ্রামে একটি বসতবাড়ির ওপর টিলা ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান ওই পরিবারের লোকজন। অনুরূপভাবে বুধবার মধ্য রাতে পাহাড়ধসে উপজেলার ধারাবহর গ্রামে একটি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। ওই পরিবারের লোকজনও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া, লক্ষ্মীপাশা, লক্ষণাবন্দ, ঢাকাদক্ষিণ, ভাদেশ্বর, বাঘা, আংশিক গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ও আংশিক গোলাপগঞ্জ পৌরসভার অনেক স্থানে টিলার নিচে লোকজন ঘরবাড়ি নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। বর্ষা মৌসুমে ও প্রবল বর্ষণের ফলে ওই সব ইউপিতে টিলা ধসে হতাহতের আশঙ্কা করছেন উপজেলার সচেতন মহল।