বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। এই ভোটডাকাত সরকারকে হটিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে গঠিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন হবে ও জনগণের সরকার কায়েম করা হবে। তিনি বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেবে, বিনা পয়সায় সার দিবে, আর ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াবে। দেশের মানুষ সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে এখন চাল কিনে খাচ্ছে। এ সরকার প্রতারণা ও ভাঁওতাবাজির সরকার।
গতকাল শনিবার ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কাউন্সিল উপলক্ষে সদর উপজেলার ডাকবাংলো আব্দুর রউফ কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলন চলাকালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস এম মশিয়ূর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব এম এ মজিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মসিউর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, কেন্দ্রীয় সহতথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নির্বাহী সদস্য আব্দুল ওহাব, নির্বাহী সদস্য মীর রবিউল ইসলাম লাবলু, জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক, আক্তারুজ্জামান, সদর উপজেলা সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, মহেশপুর পৌর সভাপতি আমিরুল ইসলাম চুন্নু, মহেশপুর উপজেলা সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, শৈলকুপা পৌর সভাপতি আবু তালেব, উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন, কোটচাঁদপুর পৌর সভাপতি সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল, উপজেলা সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, হরিণাকুণ্ডু পৌর সভাপতি জিন্নাতুল হক খান ও উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন মাস্টার প্রমুখ।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করেছে। সীমাহীন লুটপাট ও চুরির কারণে এ সরকারের মাথা নিচু করেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। ভোটডাকাতি, গণতন্ত্র হত্যা, বিপন্ন মানবাধিকার, মানুষ হত্যা, খুন ও গুমের কারণে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, চরম দুঃশাসনে দেশবাসী যখন দিশেহারা তখন আলোকবর্তিকা হয়ে আমাদের মাঝে মুক্তির ঝাণ্ডা নিয়ে এসেছেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে সত্যিকার জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার কায়েম করা হবে। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। ভোট ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রলীগের গুণ্ডারা ছাত্রদলের ছেলেদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা নারীদেরও নির্যাতন করেছে। তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ তাদের ফ্যাসিস্ট রূপ আবারো প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও পুলিশকে কাজে লাগিয়ে এই ভোটডাকাতির সরকার খুলনা ও পটুয়াখালীতে বিএনপির ওপর হামলা করেছে। বিএনপি মহাসচিব সমাবেশে আগত নেতাকর্মী ও ডেলিগেটদের আশ্বস্ত করে বলেন, আওয়ামী লীগ আর পারবে না। এবার জনগণ জেগে উঠেছে। জনতার উত্তাল ক্ষোভ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মী ও দেশের মানুষ এখন উজ্জীবিত।
ঝিনাইদহে মির্জা ফখরুল
আ’লীগের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। এই ভোটডাকাত সরকারকে হটিয়ে নির্দলীয় সরকারের...



