শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও স্থানীয় বিএম মোজাম্মেল হক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম মালতকে (৪২) দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জাজিরার উত্তর খোসাল সিকদার কান্দি গ্রামের সালাম মালতের বাড়ি সংলগ্ন নদীর ব্রিজের ওপর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে সুজন ফকির (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জাজিরা থানা পুলিশ।
জাজিরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছ মাদবর ও জাজিরা উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সেলিম মাদবরের শ্যালক শাহিন সিকদারের গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে জাজিরা থানা পুলিশ।
জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার উত্তর খোসাল সিকদার কান্দি গ্রামের মৃত কিনাই মালতের ছেলে সাইফুল ইসলাম মালত জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও একই উপজেলার সেনেরচর বিএম মোজাম্মেল হক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে জাজিরা উপজেলা সদর থেকে সাইফুল ইসলাম হিরু শেখ নামে এক ব্যক্তিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে বাড়ির কাছাকাছি সালাম মালতের বাড়ি সংলগ্ন নদীর ব্রিজে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হিরু শেখ ব্রিজের ওপর থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়ে পালিয়ে যেতে পারলেও সাইফুলকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে রাস্তায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
নিহত সাইফুলের স্ত্রী শামিমা ইসলাম মিতু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীর জীবনে কাউকে কোনো ক্ষতি করেননি। যারা আমার নির্দোষ স্বামীকে হত্যা করে আমার সন্তানদের এতিম করেছে আমি তাদের ফাঁসি দাবি করছি।
এ ব্যাপারে শাহিন সিকদারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
জাজিরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলের ইলিয়াছ মাদবর বলেন, সাইফুল মালত আমার সাথে দলবল করার কারণেই শাহিন সিকদারের লোকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইলিয়াছ মাদবর ও সেলিম মাদবরের শ্যালক শাহিন গ্রুপের মধ্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। নিহত সাইফুল ইলিয়াছের সমর্থক। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এর জেরেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হতে পারে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।