পতিতাবৃত্তিতে রাজি না হওয়ায় সঙ্গীদের নিয়ে নববিবাহিতা এক স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের হাফসরদিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জারইতলা ইউনিয়নের হাফসরদিয়া গ্রামের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে লাল চান পাশের গ্রামের পিতৃহীন এক মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে বিকৃত রুচির লাল চান স্ত্রীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি ও অসামাজিক কার্যকলাপ করানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। কিন্তু নানা কৌশলে গৃহবধূ নিজেকে রক্ষা করে আসছিলেন। এ নিয়ে কিছুদিন আগে এলাকায় সালিস দরবার হয়। স্ত্রী তার নানার বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় লালচান শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর মামা ও স্বজনদের হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে বলে এ রকম অন্যায় সে আর করবে না। স্ত্রীর সাথে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে। লাল চানের কথায় সরল বিশ্বাসে মেয়ের বাবা ও নানা বাড়ির লোকজন তার হাতে মেয়েটিকে দিয়ে দেন। গৃহবধূ কান্নাকাটি করে বাবার বাড়ি উত্তর রসুলপুর গ্রাম থেকে স্বামীর সাথে শ্বশুরবাড়ি হাফসরদিয়া গ্রামের পথে রওনা হন। রাত ৮টার দিকে শাহপুর মোড়ে পৌঁছালে স্ত্রীর মুখে গামছা বেঁধে তাকে রাস্তার পাশে পতিত জমিতে নিয়ে যায় লালচান। পরে স্বামী লালচান ও তার সাত-আটজন সঙ্গী মিলে তাকে রাতভর ধর্ষণ করে অজ্ঞান অবস্থায় মাঠে ফেলে রেখে যায়।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা গৃহবধূকে গুরুতর অসুস্থ ও বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি তার স্বামীসহ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনের নাম বলে যান।
এ ঘটনায় বুধবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বামী লাল চান মিয়াসহ (৩১) চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া অন্য তিনজন হচ্ছেÑ রন্টু চৌকিদার (৪০), নাসিরুদ্দীন (৩৮) ও শরীফ মিয়া (৩২)। গৃহবধূর বাবার বাড়ি রসুলপুর নয়াহাটি গ্রামে।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর মামা জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে স্বামী লাল চান মিয়াসহ সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে বুধবার নিকলী থানায় মামলা (নং-৯) দায়ের করেন। তাদের মধ্যে পুলিশ স্বামী লাল চান মিয়া, রন্টু চৌকিদার, নাসিরুদ্দীন ও শরীফ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে।
এ ব্যাপারে নিকলী থানার ওসি মুহাম্মদ মনসুর আলী আরিফ জানান, গৃহবধূ মারা যাওয়ার আগে পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনের নাম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রনি মিয়া ছাড়া বাকি চারজনকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। রনি মিয়াসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।



