বুয়েট শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানি ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনটঘাট এলাকায় ঘুরতে এসে পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ এবং পরের দিন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ১৫ বন্ধুকে আসামি করে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন সানির বড় ভাই মো: হাসানুজ্জামান । গত শুক্রবার রাতে মামলাটি রুজুর করার পর গতকাল শনিবার সকালে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে মৈনটঘাট এলাকায় ঘুরতে আসে ১৬ জন বন্ধু। এদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানিও ছিলেন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে সানি নদীর পাড়ে থামানো একটি ড্রেজার থেকে পদ্মায় পড়ে নিখোঁজ হয়। ডুবুরি দলকে খবর দেয়া হলে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৈনটঘাট এলাকা থেকে সানির লাশ উদ্ধার করে। সানির পরিবারের দাবি সানিকে ঘুরতে আসার কথা বলে নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সানির বড় ভাই হাসানুজ্জামান দোহার থানায় সানির সাথে ঘুরতে আসা ১৫ জনকে আসামি করে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ১৫ জনকে মৈনটঘাট এলাকা থেকে আটক করে দোহার থানায় নিয়ে আসে। শনিবার সকালে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে। শুনানি শেষে ১৫ জনের সবার জন্য তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
দোহার থানা ওসি মোস্তফা কামাল জানান, ডুবুরিদল লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সানির বড় ভাই দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের তিন দিন করে রিমান্ড দেয়া হয়েছে। রিমান্ডের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
তারিকুজ্জামান সানি বুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা থানার বাসিন্দা হারুন উর রশিদের ছেলে। ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় মা ও বড় ভাইয়ের সাথে বসবাস করতেন।