ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে মহানবীকে সা: কটূক্তি করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে নড়াইলের দিঘলিয়া ইউনিয়নের সাহাপাড়ার আকাশ সাহা। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জাতীয় শোক দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় জানান, আদালতে আকাশ সাহা জবানবন্দীতে জানিয়েছে, তার নিজের আইডি থেকে সে কটূক্তি করেছে।
এ দিকে হঠাৎ করে ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে গুজব ছড়ানো হয়, দিঘলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা মামলায় জাহাঙ্গীর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আকাশ সাহার নামে ভুয়া আইডি খুলে মহানবীকে সা: কটূক্তি করেন। এ ধরনের গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়। ফেসবুকে এ ধরনের কোনো পোস্ট বা মন্তব্য দেখলে তা মুছে ফেলার কথাও বলেন পুলিশ সুপার।
দু-তিন ধরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের একটি ছবি ব্যবহার করে জাহাঙ্গীর ইসলাম নাম দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, তিনি (জাহাঙ্গীর) আকাশের নামে ভুয়া আইডি খুলে মহানবীকে সা: কটূক্তি করেন। এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আকাশ সাহার নামে ভুয়া আইডি খুলে মহানবীকে সা: কটূক্তি করা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
যদিও সাহাপাড়ার বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর এবং মন্দিরে হামলা মামলায় গ্রেফতারকৃত ১০ জনের মধ্যে জাহাঙ্গীর ইসলাম নামে কেউ নেই বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই নড়াইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুুল আলমের আদালতে আকাশ সাহার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
এর আগের দিন ১৬ জুলাই রাতে খুলনা থেকে আকাশ সাহাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দিঘলিয়া গ্রামের সালাহ উদ্দিন কচি সরদার বাদি হয়ে লোহাগড়া থানায় আকাশের নামে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে দাঙ্গা সৃষ্টির অপরাধ’সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন।
অন্য দিকে সাহাপাড়ার বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর এবং মন্দিরে হামলার ঘটনায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত ১০ জনের মধ্যে চারজনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।