নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ‘ছুরিকাঘাতে ইমন (১৮) নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ইমনের বন্ধু জয় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে জানা যায়। নিহত ইমনের হত্যার বিচারের দাবিতে গত বুধবার বিকেলে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে স্বজনরা। সড়কে খাটের ওপর ইমনের লাশ রেখে বিচারচায় স্বজনরা। এ ঘটনায় মশিউর নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ইমন একটি সুতার কারখানায় কাজ করত বলে জানায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি। গত বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ ৩নং ওয়ার্ডের বাগমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন আদর্শনগর এলাকার মো: শাহআলমের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওহাব বলেন, ‘নিহত ইমন ও হামলাকারী রাসেল দু’জন বন্ধু ছিলেন। রাসেল দিন দিন বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় ইমন তাকে এড়িয়ে চলতেন। তাই রাসেল তার গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে বুধবার সকালে ইমনকে তুলে নিয়ে মারধর করে। পরে রাতে ইমন ও জয় একসাথে যাওয়ার সময় রাসেল ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ইমন ও জয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন।’ অপর দিকে জয় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে জানান তার বোন ফারজানা।
তবে নিহত ইমনের মা মোছা: শাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমরা জানতে পারি সিদ্ধিরগঞ্জ মাদানি নগর এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ লেগেছ। ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তাদের ঢাকা মেডিক্যালে আনলে ইমন মারা যায়। রাসেল, রাজু, স্বপন, আব্দুল খলিল, মো: ইয়াসিন, রাজিব, বিজয় ঘটনার সাথে জড়িত দাবি করে তিনি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত বুধবার রাতে নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের বাগমাড়া আদর্শনগর এলাকায় মারামারি হয়। এঘটনায় ইমন নামে একজন নিহত হয়। জয় নামে আরেকজন আহত হয়। আমরা মশিউর রহমান নামে একজনকে এ ঘটনায় আটক করেছি। সড়কে অবরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ইমন খুনের বিচারের দাবিতে বিকেলে মহাসড়ক অবরোধ করে নিহতের স্বজনরা বিক্ষোভ করেন। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেই।