নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নারীরা বাসাবাড়ি থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে। সংগ্রহকৃত বর্জ্য তারা আমাদের ডাম্পিং স্পটে পৌঁছে দেয়। এটা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। নারীরা নগরের ১৬-১৭ টি ওয়ার্ডে এই কাজ করছে। মঙ্গলবার সকালে আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগারে প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, সংগ্রহকৃত প্লাস্টিক থেকে ফুয়েল তৈরির জন্য আমরা মেশিন বসিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত মেশিনটা ভালো ছিল না। যার কারণে আমরা মার্কেট পর্যন্ত যেতে পারিনি। ওই প্রকল্পটা থেমে আছে।
আমি অনুরোধ করব, আপনারা যদি পারেন এই প্রজেক্টটা কন্টিনিউ করতে, তাহলে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি প্লাস্টিক থেকে ফুয়েল তৈরির প্রজেক্টটি ফের চালু করার চেষ্টা করবেন।
সভায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসনের কাছে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। ইউনিলিভার বাংলাদেশের অর্থায়নে ইউএনডিপি ও ইউএসডিওর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।
তিনি আরো বলেন, আমরা ২০০৪ সাল থেকে একাধিক প্রকল্পে কাজ করেছি। নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ইউএনডিপি যে কাজ করছে তা অবিশ্বাস্য। আমরা ইউএনডিপির সাথে শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলাম।
মেয়র বলেন, শ্রীলঙ্কায় বস্তিবাসীকে দেখেছিলাম, কিভাবে তারা ঘরেই বর্জ্য আলাদা করে সংরক্ষণ করেন। তিনটা আলাদা বিনে আলাদাভাবে বর্জ্য সংরক্ষণ করে। সেখান থেকে তাদের প্লাস্টিক, কাচের টুকরো কিনে নিয়ে যায়। কাগজ সরানো হয় অন্যত্র।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরে শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই ধরনের ব্যবস্থা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এই কার্যক্রম তখন চলমান রাখতে পারিনি। কারণ সেই সময়ে আমার অনেক সমস্যা ছিল। আমার টাকাও পর্যাপ্ত ছিল না। কিন্তু আপনারা এসে এখন এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
সভায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাভেদ আখতার, ইউনাইটেড ন্যাশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্ট ভ্যান এন গুয়েন, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, নগর পরিকল্পনাবিদ মইনুল ইসলাম, ইউনিলিভার বাংলাদেশ করপোরেশনের প্রধান শামীমা আক্তার, ইউএনডিপির সমন্বয়কারী মৌসুমী আক্তার প্রমুখ।