প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, আমাদের গ্যাস এখন বিরাট সঙ্কটে রয়েছে। এটা কিন্তু আমাদের তৈরি না। আজকে যদি ইউক্রেনে যুদ্ধ না লাগত আর আকাশচুম্বী দাম না হতো তাহলে আপনারা এ সঙ্কট টের পেতেন না। বাংলাদেশে কোনো রকম অভাব হতো না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাব হতো না। ইউরোপিয়ান যুদ্ধের কারণে খেসারত আমরা দিচ্ছি।
গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরার সাহায্যে মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ¦ালানি উপদেষ্টা বলেন, আকাশচুম্বী দাম যত দিন থাকবে তত দিন আমাদের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ থাকবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করার ক্ষমতা ও গ্যাস সরবরাহ করার সব ব্যবস্থা আমাদের আছে। দেশে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এই খরচ বাড়ছে-কমছে বিষয় এটা নয়। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো আকাশচুম্বী দাম। আমাদের আয় অনুযায়ী এর ব্যবস্থা করতে হবে। গ্যাস নিয়ে কোনো বেআইনি কাজ করা যাবে না।
সবার সহযোগিতা কামনা করে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন বর্তমান পরিস্থিতি একটা যুদ্ধ। এই যুদ্ধ মোকাবেলায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে কিছু হবে না।
তিনি আরো বলেন, যারা অবৈধ কানেকশন ও বাণিজ্য করবে তাদের আপনারা বরদাশত করবেন না। তিতাস যেহেতু এখানে কাজ করে আপনারা তিতাসকে সহযোগিতা করবেন। তারা অনেক সময় বিপদের সম্মুখীন হয় আপনারা তাদের পাশে থাকবেন। অবৈধ গ্যাস যদি আমরা কমাতে পারি তাহলে বৈধ ব্যবহারকারীরা একটু গ্যাস বেশি পাবেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের সাথে তিতাস কিংবা পেট্রোবাংলার কেউ জড়িত থাকলে তার দ্বিগুণ সাজা হবে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা করা হবে। তার চাকরির ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা হবে তার সাজাও হবে। এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চুরির অভিযোগ আনা যাবে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, এখন থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে জরিমানার পাশাপাশি সাজাও হবে। ম্যাজিস্ট্রেট যেভাবে চাইবেন সাজা দিতে পারবেন। অপরাধ প্রথমবার করলে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দ্বিতীয়বার করলে সাজা ও জরিমানা দ্বিগুণ হবে।
তিতাসের এমডি হারুন অর রশীদ মোল্লা বলেন, শিল্প মালিকদের জন্য আমি গ্যাস দেই। বৈধ কাস্টমারদের গ্যাস দেই, পাইপলাইন করেছি। গ্যাস কি আপনাদের সম্পত্তি না, আপনারাও এটার মালিক। তাহলে আপনারা কেন পাহাড়া দেবেন না? আমাদের কাজ করতে হবে। কাজ না করলে আপনারাও গ্যাস পাবেন না।
হারুন অর রশীদ বলেন, আমার এখানে ছয় মাসের তথ্য আছে। আমি দুই লাখ ২৩ হাজার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জেই এক লাখ ২৭ হাজার। আমাদের এই অবৈধ সংযোগগুলোকে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা এই অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ করে উদাহরণ সৃষ্টি করুন যে নারায়ণগঞ্জে কোনো অবৈধ সংযোগ নেই। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন। আমাদের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে আমাদের জানান।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, আমার জেলায় সবচেয়ে বেশি অবৈধ সংযোগ। তাই একটু মন খারাপ হয়েছে, লজ্জা পেয়েছি। একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে গত ছয় মাসে আমাকে সবচেয়ে বেশি অপারেশন করতে হয়েছে এখানে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা মিটিংয়ে বসেন। বসে আপনাদের দায়িত্বটা জাস্ট একবার একটু পড়বেন। দেখবেন যে তিতাস গ্যাসের চেয়ে আপনাদের দায়িত্বটা কোনো অংশে কম নেই, এই জিনিসগুলো রক্ষা করার। যেহেতু আপনারা সরকারি কর্মচারী এবং সরকারি বেতন নেন। তাই আপনাদের দায়িত্ব সরকারি সম্পদ রক্ষা করা। পুরো নারায়ণগঞ্জে অবৈধ লাইন আছে, এটা আমাদের জন্য যেমন লজ্জার তেমনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার জন্যও লজ্জার।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, তিতাসের এমডি হারুন অর রশীদ মোল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমির খসরু, নাসিকের সিও শহিদুল ইসলাম, বিকেএমএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেলসহ জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
নারায়ণগঞ্জে সিসি ক্যামেরার সাহায্যে তিতাসের মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, আমাদের গ্যাস এখন বিরাট সঙ্কটে রয়েছে। এটা কিন্তু আমাদের তৈরি না। আজকে যদি...



