শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার লোংসিং এলাকায় মাদকসেবন ও বিক্রিতে বাধা দেয়ায় প্রতিবাদ এবং ফ্রি-ফায়ার খেলাকে কেন্দ্র করে সিজান আকন (১৮) নামের এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় নিহতের বন্ধু মুন্না ছৈয়াল (১৯) এবং আসিফ ব্যাপারী (১৮) আহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানান, নেশা করা ও মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বখাটে লাবিব ছৈয়াল, ইব্রাহিম জয়, রাহিম হাওলাদার, নাহিম ছৈয়াল মিলে সিজানকে হত্যা করেছে। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ইব্রাহিম জয় ও রাহিম হাওলাদারকে আটক করেছে। এ ঘটনায় নড়িয়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নড়িয়া থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লোংসিং মাদবর বাজার এলাকায় সিজানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক সিজানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত অপর দু’জন মুন্না ছৈয়াল ও আসিফ ব্যাপারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত সিজান আকন নড়িয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লোংসিং গ্রামের বিল্লাল আকনের ছেলে। সে নড়িয়া বিহারী লাল উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।
নিহত সিজানের বাবা বিল্লাল আকন জানান, ইব্রাহিম জয় ও রাহিম হাওলাদার এবং তার সহযোগীরা বেশ কিছুদিন থেকেই ফ্রি-ফায়ার খেলা, নেশা করা ও নেশার দ্রব্য বিক্রয় করে কিশোরদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছিল। বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলে এর প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। আমি এই নেশাগ্রস্ত বখাটেদের উপযুক্ত বিচার চাই।
নিহতের চাচা ও নড়িয়া পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি মোতালেব ব্যাপারী বলেন, ওই বখাটেরা নেশা করা, নেশাদ্রব্য বিক্রিসহ ফ্রি-ফায়ার খেলায় আসক্ত ছিল। ওদের অপকর্মে বাধা দেয়ায় সিজানকে হত্যা ও তার বন্ধুদের কুপিয়ে আহত করে। সমাজের এসব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠাই। ঘটনাস্থল থেকে ইব্রাহিম জয় ও রাহিম হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে নিহতের পিতা বিল্লাল আকন ইব্রাহিম জয় ও রাহিম হাওলাদারসহ পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। আটককৃত এজাহারভুক্ত দু’জনকে ১০ দিন রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।