জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি হিসেবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ভাড়া (২০ কিলোমিটার ৪০ পয়সা করে ) বৃদ্ধি পায় ৮ টাকা অথচ এ রুটে একলাফে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ২০ টাকা। গতকাল সকাল থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া বেশি আদায় করছে বাস মালিকরা। এ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বাসে ২০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা আগে এ পরিবহনের ভাড়া ছিল জনপ্রতি ৪৫ টাকা। এ ছাড়া শীতল পরিবহনের এসি বাসে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা, বি আরটিসি ডাবল ডেকারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা এবং হিমাচল পরিবহনের বাসে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা নেয়া হচ্ছে।
পরিবহন মালিকদের দাবি, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই তারা ভাড়া নির্ধারণ করেছেন। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীদের সেবার দিকটাকে প্রাধান্য দিয়ে আরো কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছেন।
অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, নারায়ণগঞ্জে পরিবহন সিন্ডিকেট কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে অনৈতিক আর্থিক সম্পর্ক তৈরি করে বছরের পর বছর নারায়ণগঞ্জবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা যেতে ১৮ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে সানারপাড় হয়ে নারায়ণগঞ্জ আসতে এক কিলোমিটার বাড়ার কারণে ১৯ কিলোমিটার হয়েছে। গড়ে সাড়ে ১৮ কিলোমিটার। যদি ১৯ কিলোমিটার দূরত্বেও হিসাব করা হয় তবে বিআরটিএর নতুন নির্ধারিত হারে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের বাস ভাড়া কোনোভাবেই ৪১ টাকা ৮০ পয়সার বেশি হবে না।
ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আহসান হাবিব নামে একযাত্রী বলেন, সরকার পরিবহন মালিকদের ব্যবসার সুযোগ করে দেয়। সব সময় সরকার যা ভাড়া নির্ধারণ করে তার চেয়ে তারা বেশি ভাড়া নিয়ে থাকে। এবারও তাই হচ্ছে। সরকার যা ভাড়া নির্ধারণ করেছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আসলে কিছু বলার নেই আমাদের।
ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন মোতালেব খান। তাকে প্রতিদিনই মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। তিনি বলেন, কয়েক দিন পরপরই ভাড়া বাড়ে। কিন্তু আমাদের বেতন আর বাড়ে না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবন যাপন করাটা অনেক কষ্টকর বিষয় হয়ে গেছে।
বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান মো: জুয়েল হোসেন বলেন, সরকার আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা সেই অনুযায়ী ভাড়া বাড়িয়েছি। আগে ৪৫ টাকা করে টিকিটপ্রতি ভাড়া নেয়া হতো। এখন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের হিসেব অনুযায়ী আমাদের ৬৭ টাকা আসে। সেখান থেকে আমরা ৬৫ টাকা করে নিচ্ছি। অর্থাৎ টিকিটপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো: শামসুল কবির বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া নারায়ণগঞ্জে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখছি। একই সাথে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন মালিকদের নিয়ে আমরা বসব। যাতে একটি কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যায়।