টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতারকৃত ১০ জনের মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। অন্য ছয় আসামির প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ড দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে আসামিদের টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে গত রোববার র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১২ ও ১৪ যৌথ অভিযানে ঢাকা, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা রতনসহ এই ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। সংবাদ সম্মেলন শেষে ওইদিন সন্ধ্যা নাগাদ তাদের টাঙ্গাইলে এনে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব জানায়, বাসের হেলপারের ছদ্মবেশে ২০১৮ সাল থেকে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে আসছিল মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন। তিনি এ চক্রের দলনেতা। তার অধীনে ১৩ থেকে ১৫ জন্য সদস্য রয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় দুই দফার কারাভোগও করেছেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় ৯ মাস কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে আসেন এবং আবার যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি করে দলনেতা হন রতন হোসেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানবীর আহাম্মেদ জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে আসামিদের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা হাসানাত ছয়জনের বিরুদ্ধে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সোহাগ মণ্ডল (২০), খন্দকার হাসমত আলী ওরফে দীপু (২৩), বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস (২১), মো: জীবন (২১), আবদুল মান্নান (২২) ও নাঈম সরকার মুন্না (১৯)।
এ ছাড়া অন্য চার আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। তারা হলেন- ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রতন হোসেন (২১), মো: আলাউদ্দিন (২৪), রাসেল তালুকদার (৩২) ও আসলাম তালুকদার ওরফে রায়হান (১৮)।
এই মামলায় সব মিলিয়ে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেফতারকৃত তিনজন রাজা মিয়া, আওয়াল ও নুরনবী আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে ঈগল এক্সপ্রেসের একটি বাস কুষ্টিয়া থেকে ২৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। পথে যাত্রীবেশে ডাকাত দল বাসে উঠে। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর ডাকাতরা বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটে নেন টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কারসহ সবকিছু। ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় চলন্ত বাসেই তারা এক নারী যাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করেন।
চলন্ত বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণ আরো ২ আসামির স্বীকারোক্তি
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের মামলায় আরো দুই আসামি আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এই আসামিরা হলেন- বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস (২১) ও সোহাগ মণ্ডল (২০)। বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন করিম তাদের জবানবন্দী রেকর্ড করেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানবীর আহাম্মেদ জানান, আসামি জুলহাস ও সোহাগ ডিবি পুলিশের রিমান্ডে ছিলেন। গত মঙ্গলবার এই দু’জনসহ ছয়জন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড দেন আদালত। পরবর্তীতে এই দু’জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিতে সম্মত হলে বুধবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন করিম তাদের জবানবন্দী রেকর্ড শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই মামলায় বুধবার পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯জন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে ঈগল এক্সপ্রেসের একটি বাস কুষ্টিয়া থেকে ২৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। পথে যাত্রীবেশে ডাকাতদল বাসে উঠে। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর ডাকাতরা বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটে নেয় নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কারসহ সবকিছু। ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় চলন্ত বাসেই তারা এক নারী যাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে।



