আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওয়াহিদ খান (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরসহ অর্ধশতাধিক ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সংঘর্ষকারীরা। গত মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি ইউনিয়নের আবুড়া বড় ব্রিজ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ওয়াহিদ খান শরীয়তপুর উপজেলার চিকন্দি ইউনিয়নের আবুড়া গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিন খানের ছেলে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ইদ্রিস খাঁ ও মজিবুর খাঁ নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পালং মডেল থানা পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও পালং মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলমাছ খান ও সাবেক ইউপি সদস্য তমিজ খানের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আলমাছ খান চিকন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার খান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন খানের সমর্থক। তমিজ খান একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচ্চু সরদারের সমর্থক বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে মোদাচ্ছের খানকে প্রতিপক্ষের লোকজন চিকন্দি বাজারে ধাওয়া করে। এর কিছুক্ষণ পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, রামদা, ছেনদা, টেঁটা নিয়ে ও ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে। এ সময় ওয়াহিদ খানসহ অন্তত ২০ জন মারাত্মক আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ওয়াহিদ খানকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিহতের ভাই মোদাচ্ছের খান বলেন, আক্তার খান ও ফরহাদ খানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে আমার ছোট ভাই ওয়াহিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে আক্তারউজ্জামান খান ও ফরহাদ খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আক্তার হোসেন বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওয়াহিদ খান নামে একজন নিহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।