বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেছেন, ভাই কি যে বলি এখনতো বেঁচে থেকেও না বাঁচার মতো রয়েছি। সম্প্রতি ঝড়ের কবলে পড়ে বরগুনার ৪৪ জেলে বাংলাদেশী জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় সীমানায় অনুপ্রবেশ করলে ফেরতের বিপরীতে এখন তাদের স্থান হয়েছে কারাগারে। যার কারণে বরাবরের মতো এবারো পাশের বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের প্রতি আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু বলার নেই। মোবাইলফোনের মাধ্যমে তিনি আরো বলেন, সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনার পরপরই আমি ভারতে আসি জেলেদের ফিরিয়ে নিতে। অথচ এখন পর্যন্ত আমাদের দেখা করতেও দেয়নি। বরাবরের মতো এবারো তারা একই আচরণ করছে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে পাথরঘাটার ৪৪ জন জেলে ভারতে অবস্থান করছেন।
এ সময় তিনি আরো জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় ভারতে থাকা ৪৪ জেলের দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। স্বজন ও ট্রলার মালিকদের মতে, সাগরে থাকলে হয়তো ভাসতে ভাসতে এলেও অন্তত লাশটাও আসত। গত কয়েক দিনে সাগর উত্তাল হওয়ায় অনেক ট্রলার ডুবি এবং জেলে নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি প্রচণ্ড ঝড়ে পড়ে জেলেরা ভেসে ভারতের সীমানার মধ্যে ঢুকে পরে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম আকন জানান, এসব জেলেদের ফিরিয়ে আনতে জেলে এবং ট্রলার মালিকদের পক্ষে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ভারতে আছেন। কিন্তু জেলেদের ফিরিয়ে আনা তো দূরের কথা, অসুস্থ জেলেদের দেখতেও দেয়াও হয়নি। এ কারণে আপাতত জীবিত উদ্ধার হওয়া ৪৪ জেলে দেশে ফিরিয়ে আনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ট্রলার মালিক সমিতি ও জেলা মৎস্য বিভাগে জেলেদের তালিকা চেয়েছি। আমি তালিকা হাতে পেলেই ভারতে থাকা জেলেদের ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়ায় যাবো।
উল্লেখ্য, সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় ভারতে ভেসে যাওয়া জেলেদের ফিরিয়ে আনা এবং বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় কারাগারে থাকা জেলেদের ফিরিয়ে আনতে গতকাল সোমবার সকালে বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মানববন্ধন করেছেন মৎস্যজীবীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি দেন।



