বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সাতজনের নামে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চলতি বছরের ২ এপ্রিল চাঁদপুর সদর উপজেলার নানুপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির সম্মেলনের ফলাফল বাতিল ও পুনঃনির্বাচন ঘোষণার আদেশ চেয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়।
গত মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: রাফিউস সাহাদাত ওয়াসীম পাটওয়ারি।
মামলায় আসামিরা হলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: সলিমুল্লাহ সেলিম, সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো: শামছুল ইসলাম মন্টু, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোস্তাক মিয়া ও বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: সাইদুল হক সাইদ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মামলার বাদি ৩ নং বিবাদি সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো: শামছুল ইসলাম মন্টু কর্তৃক প্রচারিত ফলাফল এবং কথিত বিজয়ী ১ ও ২ নং বিবাদি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রূপে গৃহীত সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চান।


বাদি মামলার বিবরণে উল্লেখ করেন, ৪ নং বিবাদি চাঁদপুর জেলা বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচিত কমিটি ভেঙে তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলরের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে ১নং বিবাদি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে আহ্বায়ক এবং ২ নং বিবাদি অ্যাডভোকেট মো: সলিমুল্লাহ সেলিমকে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৩১ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক ওই আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ২০১৫ সালের ১২ মার্চ উত্তীর্ণ হয়। বর্ণিত সব বিবাদি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ধারা-৬ (উপধারা-খ-৭) মতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করার কথা থাকা সত্ত্বেও ৪-৭ নং বিবাদিদের যোগশাজসে ১নং বিবাদিকে অবৈধ সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর জেলা বিএনপির ওই আহ্বায়ক কমিটি কর্তৃক বিগত ৮ বছর ধরে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সে মতে ১-২ নং বিবাদির নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটির কথিত সব কার্যক্রম বিএনপির গঠনতন্ত্রের ধারা-৬, উপধারা (খ-৭) (পাতা-২৪, ২৭, ২৮) মতে অবৈধ এবং সে মতে ওই কমিটির প্রণীত সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম আইনত বাতিলযোগ্য। এ ছাড়াও মামলার বাদি, উল্লেখিত বিবাদিদের গঠনতন্ত্রবিরোধী সব কার্যক্রম বিস্তারিত মামলার বিবরণ উল্লেখ করেন।
বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেলিম মিয়া জানান, বাদির মৌখিক বক্তব্যের আলোকে অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে চলতি বছরের ২ এপ্রিল জেলা বিএনপির সম্মলনে এক হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলর ছিলেন। এর মধ্যে ৯৮২ জন ভোট প্রয়োগ করলেও ৮০৪জন ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি। যে কারণে বাদি পুরো সম্মেলন বাতিল চান। মামলাটি আদেশের জন্য আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।