ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার মামলায় এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
ফরিদপুরের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল, বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) প্রদীপ কুমার রায় গতকাল সোমবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো: সরোয়ার শেখ (৩৫)। তিনি মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের চুন্নু শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক। আর খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সরোয়ার শেখের মা ছাহেরা বেগম (৫৫) এবং মামা ওবায়দুল শেখ (৪৫) ও আলিয়ার শেখ (৬০)।
মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নভেম্বরে সরোয়ার শেখের সাথে ফরিদা বেগমের পরিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ৯ মাসের মাথায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২০১৭ সালের ৬ জুলাই স্বামীর বাড়ি থেকে ফরিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ফরিদাকে গলাটিপে হত্যার আলামত পাওয়া যায়। এ অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের ৪৪ দিন পরে ফরিদার মা মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে মধুখালী থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো: গোলাম মোস্তফা চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ৯ জন আদালতে সাক্ষী দেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামি সরোয়ার শেখের বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ এর ১১(ক) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় আসামিকে উল্লিখিত ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো। আসামির গলায় রশি লাগিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হোক। এ ছাড়া আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র দাস এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট স্বপন পাল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বপন পাল বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।