সাতক্ষীরার আলোচিত প্রমিলা ফুটবলার মাসুরা পারভীনের বাড়ির আঙ্গিনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের দেয়া ঘর ভাঙার নির্দেশনা লাল রঙের ক্রসচিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় সদর উপজেলার লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান মো: আব্দুল আলিম গতকাল সকাল ১০টার দিকে সওজ কর্তৃপক্ষের দেয়া এই লাল ক্রসচিহ্ন মুছে ফেলেন। এ সময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা সদর ১৩ নম্বর লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, মাসুরা পারভীন শুধু সাতক্ষীরার গর্ব না, মাসুরা আমাদের লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের অহঙ্কার। আমি নিজে হাতে সওজের দেয়া লাল ক্রসচিহ্ন মুছে ফেলেছি। তাকে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে অবশ্যই সুনজরে রাখব।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, যত দিন পর্যন্ত মাসুরা পারভীনের পরিবার নতুন বাড়ি না করতে করবেন তত দিন পর্যন্ত সওজের কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা বিজয়ী নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের বাড়ি সাতক্ষীরায় বইছে আনন্দের জোয়ার। জেলার এই দুই কৃতী খেলোয়াড়কে বরণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা। কিন্তু এই আনন্দের মধ্যে সাতক্ষীরায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে ঘরভাঙা আতঙ্কে দুশ্চিন্তায় ছিল মাসুরার পরিবার।
সাতক্ষীরা শহরের অদূরে বিনেরপোতা এলাকায় বেতনা নদীর তীরে সরকারি খাস জমিতে মাসুরাদের বাড়ি। সেখানে তার মা-বাবা ও দুই বোন বসবাস করেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফায় শুরু হতে যাওয়া সওজের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের ঘরের পেছনের দেয়ালে তিনটি ক্রসচিহ্ন দেয়া হয়।
এ বিষয়ে মাসুরার বাবা রজব আলী বলেন, ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে আমার মেয়ের একমাত্র গোলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। আমাদের থাকার জায়গা না থাকার বিষয়টি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। তখন তিনি আমাদের মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আমাকে যে জমি দেয়া হয় সেখানে ১৫ ফুট পানি জমে ছিল। বিভিন্ন দফতরে বহু দিন ছোটাছুটির পর সহায়তা পাইনি। বাধ্য হয়ে মাসুরার বঙ্গমাতা গোল্ড কাপের তিন লাখ টাকা দিয়ে মাটি ভরাট করি। সেই সময় মাসুরা ২৮ দিন বাড়িতে ছিল। তার ইচ্ছা ছিল দুই দিন বাড়িতে থেকে ঢাকায় যাবে। মেয়ের খেলার পুরস্কারের টাকা দিয়ে বাড়ি তৈরি করি। এরপর মাত্র দুই দিন নতুন ঘরে থেকে ঢাকায় খেলতে চলে যায় মাসুরার।
মাসুরার মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরবে। দেশের মানুষ আনন্দ করছে। কিন্তু আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সরকারি জায়গায় থাকায় সব স্থাপনা উচ্ছেদ করবে। আমাদের ঘরের পেছনে ক্রসচিহ্ন দেয়া হয়েছে। ঘর ভেঙে দিলে থাকব কোথায়?’ কিন্তু জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপের কারণে হয়তো এ যাত্রা আমরা রক্ষা পেলাম। সব কিছু হলো আমার মেয়ের বদৌলতে।



