মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কাতার রাজধানী দোহায় অবস্থিত দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বরতরা। একের পর এক বিমান অবতরণ করছে দোহা ও হামাদ বিমানবন্দরে। তবে বিশেষ ব্যবস্থা বিশ্বকাপে আসা যাত্রীদের জন্য। কাতারে আসা বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্টদের জন্য হায়া কার্ড (হায়া মানে লেস্ট গো) চালু করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। তাই বিমান থেকে নামার পরপরই স্বেচ্ছাসেবকরা ঘোষণা দিচ্ছেন ‘হায়া কার্ডধারীরা এ দিকে। বাকিরা অন্য লাইনে’। ২০২০ বিশ্বকাপ-এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে কাতার-বাংলাদেশ ম্যাচ কভার করতে এসে দোহা বিমানবন্দরে বেশ সময় লেগেছিল ইমিগ্রেশন, করোনা টেস্ট, এহতেরাজ অ্যাপস ডাউনলোড করাসহ নানা ঝামেলায়। এতে লেগে যায় কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু এবার কোনো বিধিনিষেধ নেই। হায়া কার্ড থাকলেই মুহূর্তে ইমিগ্রেশনের ছাড়পত্র। বড়জোর কয়েক মিনিট। আসলে যে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী কাতারে প্রবেশ করছেন তাদের জন্য যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় হয়ে যায় তা হলে সবই এলোমেলো হয়ে যাবে। তাই হায়াতেই পার।
এসব ফুটবলপ্রেমীতে এখন মুখরিত পুরো কাতার। রাজধানী দোহাতে নানা দেশের ফুটবল সমর্থকদের উপস্থিতি। হোটেলে জায়গা নেই। ফ্যান ভিলেজও ঠাসা। সবই এই আগামীকাল থেকে মুসলিম বিশ্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে। এরা দল বেঁধে বিমানবন্দরে নেমেই শুরু করে দেয় ফুটবলীয় স্লোগান। ফুটবল দল, তাদের সমর্থক, সাথে সংশ্লিষ্ট দেশের মিডিয়া কর্মীদের ভিড় এখন কাতারে। তবে আসল ধাক্কাটা শুরু হবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ম্যাচের সময়। আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স থেকে আসা তরুণ আইনজীবী ফার্নান্ডো জানান, ‘আর্জেন্টিনার প্রতি ম্যাচে ৪০ হাজার আর্জেন্টাইনের তো উপস্থিতি থাকবেই স্টেডিয়ামে।’
বিশ্বকাপকে ঘিরে কিছু অসৎ মানুষের ধান্ধাও শুরু হয়ে গেছে। তবে কপাল পুড়েছে উবার চালকদের। বিশ্বকাপের দর্শকদের জন্য বাস ও মেট্রো ফ্রি। তাই ফুটবলভক্তরা এই ফ্রি-সার্ভিসই নেবে। এতে উবারের চালকদের আয়টা একেবারেই কমে যাবে। জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উবার চালক।
শেষবারের মতো এবারের বিশ্বকাপে ৩২ দেশ অংশ নিচ্ছে। এই ৩২ দেশের জাতীয় দলের সাথে তাদের সমর্থকদের আগমন। এর বাইরে ফিফার দয়ায় টিকিট এবং মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশর পাওয়াদের উপস্থিতিও লাখ লাখ। এদের সামাল দিতেই নানা আয়োজন।
এখন বিশ্বকাপটা সফলভাবে শেষ করতে পারলেই সমালোচকদের মুখে চুন কালি দিতে পারবে কাতার সরকার।



