ফিরে কি আসবে ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইরানের সেই জয়ের পুনরাবৃত্তি। যদি তাই হয় ২৯ নভেম্বর রাত ১টায় তাহলে প্রথম বারের মতো ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে এশিয়ার এই দেশ। তাদের সামনে এই সম্ভাবনা উঁকি দিতে শুরু করেছে গতকাল আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে ওয়েলসের বিপক্ষে পাওয়া ২-০ গোলের জয়ে। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ২-৬ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কাল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানো কার্লোস কুইরোজের দলের। দিনের অপর খেলায় গ্রুপ এ-তে ইকুয়েডর ও নেদারল্যান্ডস ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়।
‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে এই জয়ে দুই খেলায় ইরানের নামের পাশে জমা করেছে ৩ পয়েন্ট। অন্য দিকে প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোলশূন্য ড্র করা ওয়েলসের পয়েন্ট ১। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইরানের ২-১ গোলে জয়টি ছিল রাজনৈতিক কারণেও ঐতিহাসিক। পশ্চিমা দেশটির বৈরী আচরণে প্রাণ ওষ্ঠাগত ছিল ইরানিদের। সেই জবাব তারা দিয়েছিল মাঠে। এবার যদি ইরানিরা গতকালের মতো পরের ম্যাচেও জয় পায় মার্কিনিদের বিপক্ষে তাহলে আরেক এশিয়ান দেশ হিসেবে খেলার সুযোগ পাকে নকআউট পর্বে।
কাল ইরান ১০ জনের ওয়েলসের বিপক্ষে জিতেছে এই বলে জয়কে খাটো করার কোনো কারণ নেই। ইরান গোল পেয়েছে ১১ মিনিট ইনজুরি টাইমের শেষ তিন মিনিটে। তবে কপালটা আরো আগে সুপ্রসন্ন হলে তারা জালে বল ফেলতে পারত দ্বিতীয়ার্ধেই। ৫১ মিনিটে পরপর তাদের দু’টি শট পোস্টে প্রতিহত। ফিরতে বলেও নেয়া হেড গোলরক্ষক রুখে দিয়ে ওয়েলসকে আশায় রাখেন। প্রথমে সরদার আজমাউনের শট আঘাত হানে পোস্টে। একটু পরেই বক্সের বাইরে থেকে আলী গোলিজাদেহ এর নেয়া বাম পায়ের শট পোস্টে আঘাত হানে। ফিরতি বলে ডাইভিং হেড জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে খেলা স্ট্রাইকার আজমাউনের। তাকে বাধা বিপক্ষ কিপার ওয়েনি হেনিসের। এর আগে প্রথমার্ধে ইরানের গোল বাতিল হয় ভারের সহায়তায় অফসাইডে। প্রথমার্ধের ২৩ ও ৪৫ মিনিটে গোল করতে ব্যর্থ ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সমর্থক এই আজমাউন।
৮৪ মিনিটে ১০ জনে পরিণত হয় ইংল্যান্ডের পার্শ্ববর্তী দেশ ওয়েলস। বক্সের বাইরে এসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করা স্ট্রাইকার মেহদি তারেমিকে ফাউল করেন ওয়েলস কিপার ওয়েনি হেনিস। শেষ ব্যক্তি হিসেবে অবধারিত গোলের বলে ফাউল। রেফারি প্রথমে গোলরক্ষককে হলুদ কার্ড দেখালেও পরে ভিডিও দেখে লাল কার্ড দেখান। এতক্ষণ দাপটের সাথে খেলা ইরান প্রতিপক্ষের ১০ জনের সুবিধা নিয়ে আরো চড়াও হয়। কিন্তু মনে হচ্ছিল খেলাটা ড্র-ই হবে। তা আর হয়নি ইনজুরি টাইমের ৮ মিনিটে রইজেব চেসমির বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ডান পায়ের তীব্র শটে। বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল। মোটামুটি তাতেই জয় হাতের মুঠোয় ছিল ইরানের। তা নিশ্চিত হয় যোগ করা সময়ের ১১ মিনিটে রামিন রেজাউনের বুদ্ধিদীপ্ত ডান পায়ের প্লেসিং শটে। বদলি গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল তুলে তা জালে পাঠান তিনি। তাতেই বিশ্বকাপে তৃতীয় জয় ইরানিদের। গত বিশ্বকাপে তারা ১-০তে হারিয়েছিল মরক্কোকে। ফিফা র্যাংকিংয়ে ইরানের অবস্থান ২০। ওয়েলস এর ১৯।
ইকুয়েডর-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ ড্র
নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। ক্যামেরুনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জয় ডাচদের। অপর দিকে কাতারকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডর। নকআউট পর্বের জন্য তাই এই ম্যাচটি জয় ছিল দুই দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত লুইস ভ্যান গালের দল ১-১ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ করে গোস্তাভো আলফারোর দলের বিপক্ষে।
খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গতকাল নেদারল্যান্ডস শুরুতেই গোল আদায় করে নেয় ইকুয়েডরের বিপক্ষে। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে নেয়া গাকপোর শট জালে জড়ায় ইকুয়েডরের। কাতার বিশ্বকাপে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে গোল।
নেদারল্যান্ডস ম্যাচের শুরু থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আক্রমণ শানাতে থাকে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগে। কিন্তু ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ছিল অবিচল। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ম্যাচে ফিরে আসে ইকুয়েডরও। ম্যাচের ৩২ মিনিটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা ভ্যালেন্সিয়ার শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ডাচ গোলরক্ষক নোপার্ট। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে ইকুয়েডরের এস্তোপিনিয়ন গোল করলেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকা দল দু’টি প্রথমার্ধ শেষ করে ১-০ গোলের ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে এসে ইকুয়েডর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। ফল পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে বাম পাশ থেকে গোলপোস্টে নেয়া এস্তোপিনিয়নের শট গোলরক্ষক প্রতিহত করলে ফিরতি বলে ভ্যালেন্সিয়া বল জালে জড়ান। ১-১-এ সমতায় ফিরে ইকুয়েডর। এটি এনার ভ্যালেন্সিয়ার কাতার আসরে তৃতীয় গোল। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে দুর্ভাগ্য বলা চলে ইকুয়েডরের। প্লাটারের শট গোলবারের ওপরে লেগে প্রতিহত হয়। না হলে এগিয়ে যেতে পারত লা ট্রিকালাররা।
৭৩ মিনিটে ইকুয়েডরের গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি ডাচ ফরোয়ার্ড। এরপর দুই দলেরই বিক্ষিপ্ত আক্রমণে জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি কোনো দলই। ফলে ম্যাচ ১-১-এ সমতায় শেষ করে আসরের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া দুই দল ইকুয়েডর ও নেদারল্যান্ডস।
ইকুয়েডর ও নেদারল্যান্ডসের ড্রয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ আসর থেকে বিদায় নেয় স্বাগতিক কাতার।