দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেনের বিপক্ষে জয়, যা ইতিহাসের পাতায় নিয়ে গেছে মরক্কোর ফুটবলকে। নিজেদের প্রথমবার এবং চতুর্থ আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়া পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশের। তাদের এই সাফল্যে মরক্কোর সাধারণ জনগণই নয়, পুরো আরব বিশ্ব এবং সারা আফ্রিকাজুড়ে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। এই অসামান্য অর্জনে মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদও নেমে আসেন রাস্তায়। মরক্কোর জার্সি পরে তিনিও আনন্দে শরিক হন। এখন এই মুসলিম দেশটির আরেকটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। আজ রাত ৯টায় তারা পর্তুগালের বিপক্ষে জয় পেলেই প্রথম আরব এবং আফ্রিকান দেশ হিসেবে পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে। কাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরিগি জানান, আমরা আবার আমাদের রাজাকে রাস্তায় নামাতে চাই। পর্তুগালকে হারিয়ে গড়তে চাই আরেক ইতিহাস।’ আল থুমামা স্টেডিয়ামে হবে এই খেলা।
চেলসিতে খেলা হাকিমি জিয়াস, পিএসজির রাইট ব্যাক আশরাফ হাকিমিদের আত্মবিশ্বাস এখন প্রচণ্ড রকমভাবে তুঙ্গে। আর্জেন্টিনার এক সাবেক ফুটবলার বলেছেন, ‘এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোই সেরা দল।’ তা না বলে কি উপায় আছে। গ্রুপ পর্ব থেকে এখন পর্যন্ত অপরাজিত। তাদের কাছে একে একে কাবু বেলজিয়াম, কানাডা এবং স্পেন। গোলশূন্য ড্রতে রুখে দিয়েছে গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াকে। তাই কাল সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ রেগরিগির দৃঢ়চেতা কণ্ঠ, ‘কেন আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলব। আমাদেরতো সামনে যাওয়ার আরো সুযোগ। এই পর্যন্ত আসার পথে আমরা হারিয়েছি ফিফা র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এবং কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট বেলজিয়ামকে। আমাদের জয় কনকাকাফ জোন থেকে সেরা হয়ে আসা কানাডার বিপক্ষে। ড্র করেছি গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েটদের সাথে। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে হারিয়েছি সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে।’ তার বক্তব্য, বিশ্বের সেরা সেরা দলকে হারানোর পর আমরা কেন শেষ আটে খেলাতেই সন্তুষ্ট থাকব। আমরা ক্ষুধার্ত সেমিতে ওঠার জন্য। প্রথম আরব এবং আফ্রিকান দল হিসেবে যেতে চাই শেষ চারে।
তবে তার দলের সবাই শতভাগ ফিট নন। কোচ তা অকপটে স্বীকার করেই বললেন, ‘টানা চার ম্যাচ খেলা। সময়ও কম। সবার ফিট থাকার কথা নয়। কিন্তু ফুটবলাররা মানসিকভাবে চাঙ্গা। এটা বড় বিষয়। এখন সেরাটা দিতে পারলেই পরের লক্ষ্য পূরণ হবে। শেষ পর্যন্ত যেতে হলে মনকে শক্ত রাখতেই হবে।’
মরক্কোর পাশে পুরো আফ্রিকা, আরব এবং মুসলিম দেশগুলো। এই সমর্থনের জন্য তাদের ধন্যবাদ দেন ওয়ালিদ রেগরিগি। জানান, ‘আমরা এখন পুরো আফ্রিকা, আরব এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধি। আমরা মরোক্কানদেরসহ এদের সবাইকেই খুশি করাতে চাই।’ এটাকে কোনো চাপই বললেন না কখনো ইউরোপের লিগে না খেলা এই কোচ। তার মতে, এটা কোনো নেতিবাচক চাপই নয়। বরং ইতিবাচক চাপ।
এরপরই পর্তুগাল সম্পর্কে তার জবাব, পর্তুগাল গ্রেটি টিম। তাদের দলে কোয়ালিটি ফুটবলারের অভাব নেই। তারাও জিততে চাইবে। কিন্তু আমরা যদি স্পেনকে হারাতে পারি তাহলে কেন আজকের প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও জিততে পারব না। ফুটবলারদের বলেছি, তোমরা কি পারবে না পর্তুগিজদের হারাতে ?
পর্তুগালের কোচও সমীহ করছেন মরক্কোকে। তবে তার আত্মবিশ্বাস আফ্রিকার প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তার দল সেমিতে যাবে। তবে সতর্ক আশরাফ হাকিমিকে নিয়ে । ফার্নান্দো সান্তোস জানান, ফরাসি লিগে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেদের সাথে খেলা হাকিমি বিপজ্জনক ফুটবলার। বিপজ্জনক সব পাস আসে তার কাছ থেকে। তার বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।