২০১১ সালের আজকের দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয় কিশোরী ফেলানী (১৫)। আজ সেই ৭ জানুয়ারি। বিএসএফের গুলিতে বহুল আলোচিত কিশোরী ফেলানী হত্যার এক যুগ পূর্ণ হলো আজ। তবুও বর্বরোচিত নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার পায়নি পরিবার।
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ কলোনিটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে কিশোরী ফেলানী। ইটভাটার কাজের জন্য সপরিবারে ভারতের বঙ্গাই-গাঁও এলাকায় থাকতেন তারা। ফেলানীর বিয়ে ঠিক হওয়ায় বাংলাদেশে আসার জন্য উপজেলার উত্তর অনন্তপুর সীমান্তের ৯৪৭/৩ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে বাবার সাথে বাঁশের মই বেয়ে কাঁটাতার পাড় হওয়ার চেষ্টা করে সে। এ সময় ভারতীয় চৌধুরীহাট ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকে ফেলানীর লাশ। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যপী তীব্র সমালোচনার কারণে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় বিএসএফের ১৮১ সদর দফতরের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস আদালতে ফেলানী হত্যার বিচারকাজ শুরু হয়। তখন ফেলানীর বাবা নুরল ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ আদালতে সাক্ষ্য দেন। কিন্তু আদালত ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আসামি অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন। রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর বাবা ন্যায়বিচারের আশায় ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আবার বিচারকাজ শুরু হয়। ফেলানীর বাবা নুরল ইসলাম ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর আবারো আদালতে সাক্ষ্য দেন। কিন্তু ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালত আবারো অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন। ২০১৫ সালে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) আরো একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করে। ওই বছরের ৩১ আগস্ট ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সে দেশের সরকারকে ফেলানীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ লাখ রুপি প্রদানের অনুরোধ করেন। কিন্তু এর জবাবে সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়। এরপর মানবাধিকার সংগঠন মাসুম ফেলানীর বাবার পক্ষে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর রিটের শুনানি শুরু হয়। কিন্তু ২০১৬, ১৭ ও ১৮ সালে কয়েক দফা পিছিয়ে যায় শুনানি। পরে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ আবারো শুনানির দিন ধার্য করা হয়। তবে আজ পর্যন্ত সে শুনানি হয়নি। এ দিকে একযুগ পেরিয়ে গেলেও মেয়ে হত্যার বিচার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাবা নুরুল ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম। তারা বলেন, আল্লাহ যেন কারো সন্তানের এমন মৃত্যু না দেন। চোখের সামনে আমাদের সন্তানকে পাখির মতো গুলি করে মেরে ফেলল বিএসএফ। অথচ ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা কোনো বিচার পেলাম না।
নিহত ফেলানীর প্রতিবেশী ফজলুল হক ও মরিয়ম বেগম জানান, ফেলানী হত্যার পর কিছুদিন সরকারি-বেসরকারি ভাবে অনেকেই পরিবারটির খোঁজ খবর নেয়। কিন্তু এখন আর কেউ পরিবারটির খোঁজ রাখে না। মেয়ে হত্যার বিচার না পেয়ে পরিবারটি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্রাহাম লিংকন বলেন, করোনার কারণে ফেলানী হত্যার বিচার ঝুলে ছিল। তবে দু’রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব সম্পর্ক অটুট রাখতে ভারতের উচ্চ আদালত বিচারটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আমি আশা করি।
ফেলানী হত্যার ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ : বিচার না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত পরিবার
২০১১ সালের আজকের দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয় কিশোরী ফেলানী (১৫)। আজ সেই ৭ জানুয়ারি। বিএসএফের গুলিতে বহুল আলোচিত...



