প্রকাশ্য দিনের বেলায় গত মঙ্গলবার ভাবীকে গাছের সাথে বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যার করেছে পাষণ্ড দেবর। গত রোববার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তের হাতে খুন হয়েছে লাভলী বেগম (৩৫) নামের অপর এক গৃহবধূ।
ঘটনা দু’টি ঘটেছে, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের বাগঝাপা গ্রামে একই পাড়ায় একদিনের ব্যবধানে।
উভয় ঘটনার মূল দুই আসামি মো: সজল শরীফকে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলা এলাকা এবং মো: লিয়াকত হোসেন মোল্যাকে ঢাকার বাদামতলী এলাকা থেকে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কাশিয়ানী থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাগঝাপা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো: ইউনুচ আলী মোল্যার স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে (৫৫) তার আপন দেবর মো: লিয়াকত হোসেন মোল্যা (৪৭) এবং অন্য দেবর মৃত-মো: আব্দুর রহমানের ছেলে মো: সোহেল মোল্যা (৩০) কয়েকজন অজ্ঞাত লোক বাড়ির উঠানে একটি পেয়ারা গাছের সাথে হাত পা বেঁধে সারা শরীরে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কাশিয়ানী ১০০ বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতির কারণে তাকে শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতালে পাঠালে সেখানে তিনি গতকাল বুধবার সকালে মারা যান। কাশিয়ানী থানার এস আই মো: দেওয়ান সাদেকুল,এএস আই মো: মিজানুর রহমান ঢাকার বাদামতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেবর মো: লিয়াকত হোসেন মোল্যাকে (৪৭) গ্রেফতার করে।


নিহতের ভাই মো: আক্তার হোসেন বাদি হয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
অন্য দিকে একই পাড়ায় চার সন্তানের জননী সাহেব শরীফের স্ত্রী লাভলী বেগমকে (৩৫) রোববার রাতে ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা রড, হাতুড়ি ও রামদা দিয়ে এলাপাতাড়ি মারধর করে সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে। হামলাকারীরা শুধু লাভলী বেগমকে ছাড়াও তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে স্থানীয় মাজড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মো: রতন শরীফের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। গত সোমবার সকালে লাভলী বেগম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
মা মনোয়ারা বেগম বাদি হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামালা করলে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি মো: সজল শরীফকে (৩০) নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনর্চাজ মো: ফিরোজ আলম ঘটানা দু’টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে।