টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মহিষের আক্রমণে এক নারীর মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ আরো দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, জেলার দেলদুয়ারে পাগলা মহিষের আক্রমণে গত রোববার লাউহাটি ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন আরো প্রায় পাঁচজন। রোববার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসমত আলী ও রাত সাড়ে ৯টায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে কিতাব আলীর নামের আরো এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানার ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা।
ওসি জানান, গত রোববার সকালে লাউহাটি ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে মহিষটি লোকজনের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় মহিষটির আক্রমণের শিকার হয়ে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ওই দিনই বিকেল ৩টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মধ্যে সোমবার রাতে হাসমত আলী এবং কিতাব আলী মারা যান।
এলাকাবাসী জানান, রোববার সকাল ১০টার দিকে এলাসিন ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের মো: শরিফ মিয়ার একটি গৃহপালিত মহিষ প্রথমে শরিফ মিয়ার ওপর চড়াও হয়। তার শিংয়ের গুঁতোয় শরিফ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে মহিষটি এলোপাতাড়ি দৌড়াতে দৌড়াতে থাকে, যাকে সামনে পায় তাকেই আক্রমণ করতে থাকে।
দেলদুয়ার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: বাহাউদ্দিন সারওয়ার রিজভী জানান, খবর শোনার পর দ্রুত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: রানা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ট্রাইব্যুলাইজার টিমকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তারা এসে মহিষটিকে অচেতন করার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু তার আগেই জনতা দা, শাবল দিয়ে কুপিয়ে মহিষটিকে মেরে ফেলে।