বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সন্ত্রাসী তৎপরতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প। ঈদে বান্দরবানে আশানুরূপ পর্যটক আসবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ দিন থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গি তৎপরতায় অভিযানের কারণে বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় দেশী বিদেশী পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা চলছে। অন্য দিকে সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের সঙ্ঘাতে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এলাকাগুলো থেকে। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছে এই এলাকার পর্যটন শিল্প। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতি ঈদে বান্দরবানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হলেও এবার হোটেল মোটেল বিশ শতাংশও বুক হয়নি। অথচ এই সময়গুলোতে হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলো সব আগাম বুক হয়ে যেত। তাই ঈদের সময়ে পর্যটন ব্যবসা জমবে কি না তা নিয়ে সবাই এখন শঙ্কিত। গত বছরের শুরু থেকেই পাহাড়ে নতুন গজিয়ে ওঠা সংগঠন কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট কেএনএফ এর তৎপরতা শুরু হয় বান্দরবানে। পরে এ সংগঠনটির সাথে প্রশিক্ষণে জড়িয়ে যায় নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া। কেএনএফের কাছে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ নেয়ার খবর প্রচার হওয়ার পর বান্দরবানের সীমান্ত এলাকাগুলোতে র‌্যাব সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে ৫০ জনেরও বেশি জঙ্গি ও কেএনএফ সদস্য ধরা পড়ে। অভিযানের কারণে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় দেশী-বিদেশী পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকরা এখনো ভ্রমণে যেতে পারছেন না এসব এলাকায়। বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলো সব এই তিনটি উপজেলায়। এসব এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন অনেকটাই বন্ধ। পর্যটকরা ভ্রমণে আসলে শুধু মেঘলা, নীলাচল, নীলগিরি যেতে পারেন। অন্য সবগুলোই এখন বন্ধ রয়েছে। জেলা পর্যটন হোটেল মোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন পর্যটকরা এখন শুধু হাতেগোনা কিছু পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে পারছে। বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ রয়েছে। অথচ পর্যটকরা দুর্গম এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যেতে বেশি পছন্দ করে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়বেন। এর আগের বছরগুলোতে করোনার কারণে বান্দরবানে পর্যটন ব্যবসা হয়নি। আর এখন নিষেধাজ্ঞা চলছে। ঈদে এবার খুব একটা বেশি পর্যটক আসবে না বলে মনে করছেন এই ব্যবসায়ী। জেলা শহরের কাছে হলিডে ইন রিসোর্টের মালিক জাকির হোসেন জানিয়েছেন রিসোর্টগুলোতে হাতেগোনা কিছু পর্যটক থাকলেও অধিকাংশ হোটেল মোটেল এখন ফাঁকা। নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক পর্যটকই এখন আসতে ভয় পাচ্ছেন। পর্যটন ব্যবসায় এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। পর্যটন গাইড শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যটকরা দুর্গম এলাকায় ট্রেকিং করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু এসব এলাকায় এখন নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিরাপত্তার কারণে সেখানে এখন সবকিছু বন্ধ রয়েছে। ফলে ঈদের সময়ে যে পর্যটকরা আসত তারা এখন অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে। পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করে তুলতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানালেন এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।