জুনিয়র আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, কখনোই মানুষের সাথে অমানবিক আচরণ করবেন না। শুধু পয়সার জন্য আল্লাহর সৃষ্টি মানবের সাথে দুর্ব্যবহার করবেন না, বরং মানবিক আচরণ করবেন। ভালো আইনজীবী হতে চায় সবাই কিন্তু ভালো আইনজীবী হয় ক’জন। যদি লেখাপড়া না করেন, সততা যদি না থাকে, যদি পরিশ্রম না করেন তবে কখনোই ভালো আইনজীবী হতে পারবেন না। সব সময় বিচারপ্রার্থীদের সৎ উপদেশ দেবেন। সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই আপনি প্রথম সারির আইনজীবী হতে পারবেন। নিজে আলোকিত হবেন অন্যকে আলোকিত করবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক আয়োজিত আইন পেশায় ৫০ বছর ঊর্ধ্ব চারজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামলা জট কমাতে আইনজীবীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, মামলার জট নিরসনে ১০২ জন বিচারক নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলেছে। এ বছরের শেষ দিকে আরো ১০০ জন বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে। বিচারকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই মামলার জট দ্রুত নিরসন হবে।


জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আইনজীবী আমানউল্লাহ আকাশের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
অনাড়ম্বর ওই অনুষ্ঠানে আইনজীবী নওয়াব আলী, আইনজীবী আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, আইনজীবী এইচ আর জাহিদ আনোয়ার ও আইনজীবী খলিলুর রহমানকে সংবর্ধনা স্মারক প্রদান করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এর আগে দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য নির্মিতব্য বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এ সময় সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা উদ্যোগ নিয়েছি পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় নিষ্পত্তিকৃত মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় সুনির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এখান থেকেই সাংবাদিকরা সব তথ্য পাবেন।
প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ৩৫ কোটি টাকায় প্রতিটি জেলায় ন্যায়কুঞ্জ নামে নির্মিতব্য বিশ্রামাগারের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা স্বস্তি পাবেন।