পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, বিদেশে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার নেই। উল্টো এমন নিষেধাজ্ঞার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ইমরান খান, তার স্ত্রী বুশরা বিবি ও তার দল পিটিআইয়ের নেতাদের ওপর দেশত্যাগে সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারির পর ইমরান খান এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সরকারের আশঙ্কা, ইমরান খান বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন।
এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার এক টুইটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আমার নাম রাখার জন্য ধন্যবাদ। বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই আমার নেই। কারণ বিদেশে আমার ব্যবসাও নেই, সম্পত্তিও নেই। এমনকি দেশের বাইরে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নেই।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘যদি অবকাশ যাপনের সুযোগ পাই, তাহলে সেই স্থানটি হবে আমাদের দেশের দক্ষিণের পাহাড়গুলো। বিশ্বে এটিই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।’ এ দিকে কথিত আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৯ মে ইসলামাবাদ আদালতের ভেতর থেকে ইমরান খানকে আটক করেছিল পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনী রেঞ্জার্স। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে ইমরানের সমর্থকরা পুরো দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ওই দিন সেনাবাহিনীর সদরদফতর এবং লাহোরে এক কর্পস কমান্ডারের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
এসব আন্দোলন ও হামলার দোহাই দিয়ে এখন ইমরানের দল পিটিআইকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। এ ছাড়া অনেককে নিরবে দলত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এখন দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর আরো চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন এই শঙ্কায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, তার স্ত্রী বুশরা বিবি এবং ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের সাবেক-বর্তমান কয়েক ডজন নেতার নাম ‘নো ফ্লাই লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত করেছে পাকিস্তান সরকার। বৃহস্পতিবার তাদের নাম এ তালিকায় ওঠে। সাধারণত কারো নাম দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাজনিত কোনো তালিকায় থাকলে ওই নাম বিভিন্ন বন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এমন ক্ষেত্রে তালিকায় থাকা ব্যক্তি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারেন না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র ও আইনবিষয়ক বিশেষ সহকারী (এসএপিএম) আতাউল্লাহ তারার গত বছর ক্ষমতাচ্যুত ইমরান ও তার স্ত্রীর নাম ‘নো ফ্লাই লিস্টে’ যুক্ত করার কথা নিশ্চিত করেছেন। এ তালিকায় কাসিম সুরি, মুরাদ সাঈদ, হাম্মাদ আজহার, ইয়াসমিন রশিদ ও আসলাম ইকবালের মতো পিটিআইয়ের প্রভাবশালী নেতাদের নামও আছে। আছে সদ্যই দলটি ছাড়া আসাদ উমর ও মালিকা বোখারির মতো রাজনীতিকরাও।
সাধারণত ‘বিপজ্জনক’ লোকজনের চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং দেশের বাইরে যাওয়া ঠেকাতে তাদের নাম ‘নো ফ্লাই লিস্টে’ দেয়া হয়। তবে পাকিস্তানের প্রায় সব সরকারই তাদের বিরোধীদের নাম নিয়মিতই এ তালিকায় ঢুকিয়েছে।
একের পর এক মামলা, গ্রেফতারের পাশাপাশি বিদেশযাত্রায় এই নিষেধাজ্ঞাবিরোধী নেতাদের ওপর চাপ বাড়াতে কাজে লাগে। তবে ইমরান বারবারই বলেছেন, তিনি দেশ ছাড়বে না। পিটিআইয়ের নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফররুখ হাবিব বলেছেন, ‘ইমরান খান কোথাও যাবেন না, তাই তার নাম এ তালিকায় রাখা অর্থহীন’। ইমরান ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ক্ষমতা কব্জায় রাখতে দেশকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলছে সরকার - জোনায়েদ সাকি
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বকারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দেশের স্বার্থে সরকার পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করছে না, গদি রক্ষার স্বার্থে তৈরি হচ্ছে নীতি। সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে দেশকে বিপজ্জনক পরিণতির দিকে ঠেলছে। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং সব ক্ষমতা একজন ব্যক্তির কাছে এসে ঠেকলে পুরো সমাজ বিভক্তিতে পড়ে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রথম কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে দলটির উদ্যোগে ‘রাজনৈতিক সঙ্কট ও রাষ্ট্রের গতিমুখ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রাম ও লড়াই করেই আদায় করতে হবে, কেউ বা কোনো বিদেশী শক্তি এসে তা উদ্ধার করবে না। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর একত্রে এসে দাঁড়ানোটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিএনপি যদি এখানে এসে একসাথে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে সবাইকেই ডুবতে হবে। দেশকে আমরা ধ্বংসের মুখে ফেলে দিতে পারি না।
জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে সভায় আলোচনা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ। সভায় সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বক আবুল হাসান রুবেল।
অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ফেনীর শাহীন চার দিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছে। দেশের গুণগত পরিবর্তন তো মানুষের বেঁচে থাকার জন্য। ‘মধুর ক্যান্টিন’, ‘পল্টন মোড়’ এখন চলে গেছে ওয়াশিংটনে। আওয়ামী লীগের অন্তরে এক রকম ও বাহিরে অন্য রকম। সারারাত ব্যালট ভরে সকালে গণতন্ত্রের কথা বলতে পারে এরা।
সাইফুল হক বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনব্যবস্থা রূপান্তর এখন রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয়। আজ সকালের শুরু হয়েছে বড় নৌকাডুবির খবরে। নৌকার আরো ভরাডুবি হবে, এমনকি জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। ফজলে নূর তাপসের বক্তব্য বিষয়ে উচ্চ আদালত কি ভূমিকা নেয় এটা তাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। ভিসানীতি বাংলাদেশের সম্মান ভূলুণ্ঠিত করেছে। সোমালিয়া, নাইজেরিয়া বা ঘানার কাতারে বাংলাদেশকে নামিয়ে নিয়েছে বর্তমান সরকার।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে সালাম ভাইয়ের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দরকার ছিল। আইন পেশাও এখন মাস্তানির ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়রও শেখ পরিবারের সদস্য। এখন আইজীবীদের পেশাজীবী সংগঠন ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে। হাসনাত কাইয়ুম বলেন, আবদুস সালাম রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের চিন্তাকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি প্রাসঙ্গিক থাকবেন। বিজ্ঞপ্তি।



