বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে নাকি আওয়ামী লীগ ১০ আসন পাবে না। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফখরুল ও তার নেত্রী খালেজা জিয়া আওয়ামী লীগকে ৩০ আসন দিয়েছিল। অথচ আল্লাহর হুকুমে তারাই ৩০ আসন পেয়েছিল। এবার যে কী হবে জানি না। এবার তারা আরো বেপরোয়া ও বেসামাল হয়ে গেছে। ইউরোপ এসেছে, আমেরিকা এসেছে। বিএনপি ভেবেছিল তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ সরকারকে বিদায় করে দিবে। ফলাফল কী হলো, পাইলেন ঘোড়ার ডিম। নালিশ পার্টি বিএনপি, নালিশ করতে করতে এখন দেখছে নালিশে কোনো কাজ হচ্ছে না। বিএনপি খাই খাই পার্টি। ক্ষমতার জন্য এতই বেপরোয়া হয়ে গেছে এখন তাদের আর ক্ষমতার দরকার নেই, তাদের একটি মাত্র লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবার হাওয়া ভবন সৃষ্টি হবে, গণতন্ত্রকে গিলে খাবে, পুরো দেশকে গিলে খাবে, বিএনপি মানেই ভোট চোরের দল। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। কারো ফরমায়েশে নির্বাচন হবে না।
তিনি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সভাপতিত্বে ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আ ন ম চৌধুরী সেলিম, ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।
সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা জানি মির্জা ফখরুল ইসলাম একজন সজ্জন ব্যক্তি। আমার পিতা শিক্ষক ছিলেন, মির্জা ফখরুলও কলেজের শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু ফখরুলের কথাবার্তা এত বেসামাল, এত মিথ্যা কথা বলতে পারেন, তার মুখে এত বিষ, এত গালিগালাজ করতে পারেন মনে হয় তিনি প্যাথলজিক্যাল লায়ার। ফখরুল ইসলাম একজন মিথ্যাবাদী।
সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা মানে উন্নয়ন। স্বাধীনতার পর কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলে ভাঙন রোধে কেউ ক্রসড্যাম নির্মাণ করতে পারে নাই। অথচ গত মঙ্গলবার একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলে ভাঙন রোধে ক্রসড্যাম নির্মাণের জন্য ৫৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। নোয়াখালীতে আমরা যত উন্নয়ন করেছি, সব উন্নয়ন দৃশ্যমান, মানুষ উন্নয়ন চোখে দেখছে। আগে নোয়াখালী ছিল অন্ধকারে, এখন শেখ হাসিনার উছিলায় বৃহত্তর নোয়াখালী আলোকিত হয়ে গেছে। আগে বৃহত্তর নোয়াখালী ছিল বিএনপির ঘাঁটি, এখন কাজ করে আমরা আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করেছি। বাংলাদেশের ৭০% মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল এত উন্নয়ন দেখে ফখরুলের বুকে জ্বালা। প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে আগামী ২০ দিনের মধ্যে ১০০ সেতু উদ্বোধন করা হবে। আমরা কথা বলি কম, কাজ করি বেশি।