সরকারের পদত্যাগ এবং সংসদ বিলুপ্তির এক দফা সামনে রেখে আজ রাজধানীতে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মহাসমাবেশ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা যেকোনো সঙ্ঘাত এড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। রাজধানীতে মোতায়েন করা হয়েছে ৩০ হাজার পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য। এরইমধ্যে গতকাল বিকেল থেকে রাজধানীর চেক পোস্টগুলোতে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে সাদা পোশাকে কর্মকর্তারাও। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি বসানোর পাশাপাশি ঢাকার প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে মেটাল ডিটেক্টরসহ অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে রায়ট কার, জলকামান, বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দেখা গেছে, নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের দুই পাশে রাস্তায় দু’টি জলকামান ও একটি রায়ট কার দাঁড় করিয়ে রেখেছে পুলিশ। কার্যালয়ের তিন পাশে দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচি ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও করণীয় নির্ধারণে গতকাল দফায় দফায় জরুরি বৈঠক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এ দিকে মহাসমাবেশ জনভোগান্তি হলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে জনগণের ভোগান্তি যেন বেশি না হয় সেদিকে দলগুলোকে দৃষ্টি দিতে হবে। তা না হলে বাধ্য হয়ে আগামীতে এসব কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হতে পারে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বৃহস্পতিবার ওয়ার্কিং ডে। তা ছাড়া সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস। এমন দিনে এতগুলো রাজনৈতিক দলকে একসাথে সমাবেশের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়। কোন কোন দল সমাবেশের অনুমতি পাবে- সেটি পরে জানিয়ে দেয়া হবে। এত দলের কর্মসূচি একই দিনে, নাশকতার শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন ধরনের লোকজন আসবে। কারণ আমাদের অতীতের ইতিহাস তো ভালো নয়।
ডিএমপির একাধিক গোয়েন্দা ও ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার মূল নজর থাকবে তিনটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশে। দল তিনটি হলো- বিএনপি, যুবলীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অন্তত ৩০ হাজার পুলিশ সদস্য একযোগে বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন থাকবেন। বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সার্ভিলেন্স বাড়ানো হয়েছে। সাদা পোশাকে মোতায়েন করা হয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনী ও সংস্থার সদস্য। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় ব্যবহৃত ডিএমপির জলকামান, সাঁজোয়া যান, র‌্যাকার গাড়ি। চেক পোস্টগুলোয় সক্রিয় তল্লাশি ও নজরদারি থাকবে। যানজট তৈরি হবেই, তা ধরে নিয়ে বিকল্প রুটগুলো সচল রাখার আগাম প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পুলিশ যদি মনে করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হবে, তবে সমাবেশ করতে দেবে। যদি গোলমাল করার আশঙ্কা থাকে তাহলে তো বেসামাল হবে।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আমাদের প্রস্তুতি আছে। পর্যাপ্তসংখ্যক জনবল থাকবে। যারা নাশকতার চেষ্টা বা বিশৃঙ্খলা করবে তাদের খুঁজে বের করে কঠোরভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
নিরাপত্তার বিষয় র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ঢাকার প্রবেশদ্বারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। কেউ যেন অবৈধ অস্ত্র বা নাশকতা সৃষ্টির মতো কোনো সামগ্রী নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য চেকপোস্ট বসিয়ে প্রবেশদ্বারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে আমরা সাইবার পেট্রোলিং করব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে কেউ যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি থাকবে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে সেদিকে নজরদারি রাখা হয়েছে। সাদা পুলিশের পাশাপাশি ইউনিফর্মেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। কেউ যেন অস্ত্র বা বিস্ফোরকদ্রব্য বহন করতে না পারে সেদিকে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ঢাকা শহরের মধ্যে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।