টানা ভারী বর্ষণে বা বৃষ্টিপাতের ফলে দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার উপকূলীয় এলাকা ধলীগৌরনগর, লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নসহ ৯ ইউনিয়নের অধিকাংশ নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে পানির নিচে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা ডুবে রয়েছে আমন ধানের বীজতলা ও চাষের জমি। অনেক জায়গায় খাল-বিল পানিতে টুই টুম্বুর এমনকি বসত বাড়ির বাগান ও পানির নিচে রয়েছে। পুকুর মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে দিন কাটছে চাষিদের। কৃষকের আমনের বীজতলাও রয়েছে দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে। বৃষ্টি আরো দীর্ঘায়িত হলে পুকুর মাছের ঘেরসহ আমনের বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার কৃষকরা। আমন আবাদে শঙ্কিত রয়েছে তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার ধলীগৌরনগর, লর্ড হার্ডিঞ্জ, রমাগঞ্জ, চরভূতা, পশ্চিম চর উমেদ, বদরপুর ইউনিয়নসহ প্রতিটি ইউনিয়নের ছোট-বড় একাধিক বিল পানিতে ডুবে রয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব স্থানে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরউমেদ আহম্মদিয়া দাখিল মাদরাসার মাঠ পানিতে ডুবে রয়েছে। আশপাশের অনেক এলাকায়ও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি জমে থাকায় মাটি নরম হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এবং সড়কের অনেক গাছপালা ধসে পড়েছে। যাতায়াতের কাঁচা সড়কগুলো হাঁটু পরিমাণ কাদা মাড়িয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের। রমাগঞ্জ ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিন বাজার এলাকার লোকমান, জাকির, শাহিন, রিপন ও নোমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে আমন ধান চাষের জমি এবং বীজতলা ও আমাদের যাতায়াতের কাঁচা সড়কটি যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু যায়গায় পানি জমে আছে। পানি শুকিয়ে গেলে হাঁটু পরিমাণ কাদা মাড়িয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে। তারা আরো বলেন, প্রতি বছর বর্ষায় হাফিজ উদ্দিন বাজার থেকে পশ্চিম দিকে যাতায়াতের কাঁচা সড়কটি হাঁটু পরিমাণ কাদা হয়ে যায় এ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন পূর্ব চরউমেদ আহম্মদিয়া দাখিল মাদরাসা, দক্ষিণ পূর্ব চরউমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এবং পূর্ব চরউমেদ কমিউনিটি ক্লিনিকের রোগী ও সহস্রাধিক এলাকাবাসী। ওই কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানাচ্ছি কর্তৃপক্ষের নিকট।
ধলীগৌরনগরের চরমোল্লাজি গ্রামের মো: নাজিম মিয়া বলেন, দীর্ঘ কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আমাদের আমনের বীজতলা ও চাষের জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। ধলীগৌরনগর ও রামগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বেতুয়া খালের দু’কূলের কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের জন্য বেতুয়া খালের ওপর নির্ভর করলেও এখন তা হচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে বেতুয়ার খাল অবৈধভাবে দখল করে জাল বসানোর কারণে বেতুয়ার খালে কচুরিপানা জমে উঠেছে এবং জালের কারণে পানি আসা-যাওয়া করতে পারছে না। স্থানীয় একাধিক সচেতন মহল বলেন. পর্যাপ্ত স্লুইস গেট না থাকা এবং খাল কচুরি পানায় ভরে যাওয়ায় পানি নামতে না পাড়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বেতুয়ার খালে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি প্রশাসন যেন জরুরিভিত্তিতে বেতুয়ার খালে বসানো অবৈধ জালগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করেন।