জামালপুরের ইসলামপুরের যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের পাহাড়ি ঢলে জামালপুরে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র, দশআনীসহ সবক’টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নতুন নতুন অঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এতে নদী তীরবর্তী উপজেলাগুলোতে বন্যাপরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। আরো দু’এক দিন নদীর পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো।
যমুনার তীরবর্তী দুই উপজেলা বিশেষ করে ইসলামপুরের নিম্নাঞ্চলসহ নতুন নতুন গ্রাম দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইসলামপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী ছয়টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ ৩০টিরও অধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের ১০ হাজারেরও অধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। একের পর এক তলিয়ে যাচ্ছে রোপণ আমনসহ বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত ও বীজতলা। ইসলামপুর-মাহমুদপুর আমতলী-ঢেংগার গড়, উলিলা-পচাবহলা, ইসলামপুর-গুঠাইল সড়কসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের চিনাডুলী ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়া নামকস্থান অরক্ষিত থাকায় যমুনার পানি বাড়লেই ইসলামপুর উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়।
জামালপুর জেলা প্রশাসক মো: ইমরান আহমেদ গতকাল ইসলামপুরের বন্যা দুর্গত এলাকা পরির্দশন করেছেন। তিনি চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বামনা এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর বন্যা দুর্গত পরিবারের মধ্যে ৩০০ প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী, ৫০ প্যাকেট শিশু খাদ্য ও ২০ বস্তা গো-খাদ্য বিতরণ করেন।
এ সময় উপজেলার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামাল আব্দুন নাছের বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু, চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি আরো ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।



