সিলেটের গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তরে ওসির উৎকোচ দাবির প্রতিবাদে গোলাপগঞ্জ শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ওসি রফিকুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। শ্রমিক কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন এলোপাতাড়িভাবে রেখে লাঠিসোটা নিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-বিয়ানীবাজার, সিলেট-ঢাকা দক্ষিন-ভাদেশ্বর সড়ক অবরোধ করে রাখেন এবং গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিতে থাকেন। টানা প্রায় ৫ ঘণ্টা মাইক্রোবাস উপকমিটির উদ্যোগে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখায় হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে সড়কে। এতে কয়েক হাজার যাত্রীসহ রোগীরা চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হন। পরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান, এএসপি সার্কেল (গোলাপগঞ্জ), পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদ, শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিন, আবুল হোসেন অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি মাখন মিয়া, জেলা শ্রমিক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনিরুজ্জামান মনিরসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলে শ্রমিক নেতারা অবরোধ তুলে নেন। এদিকে ওসি রফিকুল ইসলাম উৎকোচের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, একটি ভুল বুঝাবুঝিতে এ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে।

জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার হেতিমগঞ্জে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে উপজেলার তুরুকভাগ গ্রামের মো: শফিক উল্লাহর ছেলে ফখরুল ইসলাম বাছনকে (৪৩) একটি মাইক্রোবাস (নোহা) গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে গুরুত্বর আহত হয়ে সড়কে পড়ে থাকেন ফখরুল ইসলাম বাছন। স্থানীয়রা তাকে গুরুত্বর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে মারা যান। নিহতের ছোট ভাই মো: নাছির উদ্দিন এ ব্যাপারে কোনো মামলা করবেন না এবং তার ভাইয়ের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করার আবেদন করেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানায়। এতে ওসি মো: রফিকুল ইসলাম উৎকোচ দাবি করেন, অন্যথায় তিনি লাশ ময়নাতদন্তের পর মামলার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। বিষয়টি গোলাপগঞ্জ মাইক্রোবাস উপকমিটির সভাপতি আব্দুস ছামাদ, জেলা শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিনসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতারা মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে নিহত ফখরুল ইসলাম বাছনের লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য তাদের পরিবারের আবেদনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন।

ওসি রফিকুল ইসলাম তাদের অনুরোধও না রেখে ইঙ্গিতের মাধ্যমে উৎকোচ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন গোলাপগঞ্জ মাইক্রোবাস উপকমিটির সভাপতি আব্দুস ছামাদ। গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করায় ফুঁসে ওঠেন গোলাপগঞ্জ মাইক্রোবাস উপকমিটির শ্রমিকরা। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-বিয়ানীবাজার, সিলেট-ঢাকা দক্ষিণ-ভাদেশ্বর সড়কে এলোপাতাড়িভাবে গাড়ি রেখে লাঠিসোটা নিয়ে ওসির অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ও ওসির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার সামনে অবস্থান নেয় এবং দফায় দফায় ওসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন শ্রমিকরা। প্রায় ৫ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখায় সড়কের দুই দিকে হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে আগত যাত্রী, সাধারণ মানুষজন, শিক্ষার্থীসহ রোগীরা ভোগান্তি ও হয়রানির কবলে পড়েন। পরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান, এএসপি সার্কেল (গোলাপগঞ্জ), পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদ, শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিন, আবুল হোসেন অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি মাখন মিয়া, জেলা শ্রমিক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনিরুজ্জামান মনিরসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির বিষয়টি আশ্বস্ত করলে শ্রমিক নেতারা অবরোধ তুলে নেন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অবরোধের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, একটি ভুল বুঝাবুঝিতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে।