ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের চর ছয়আনী গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী জেকি আক্তার ও তার দুই ছেলে আপন ভাগ্নিজামাইয়ের হাতেই খুন হয়েছেন। জেকিকে হত্যার পর দেখে ফেলায় একে একে তার দুই সন্তানকে হত্যা করে ভাগ্নিজামাই নরসিংদীর মাধবদীর আলগী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে জহিরুল ইসলাম। এরপর বাইরে থেকে গেইট তালা দিয়ে পালিয়ে যায় সে। পুলিশ জহিরুলকে গতকালই আটক করেছে। এ দিকে নিহত জেকি আক্তারের পিতা হাজী আবুল হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বাঞ্ছারামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেকি আক্তার ও তার দুই সন্তান খুন হওয়ার রাতে তার বাসায় আসেন বড় বোনের মেয়ের জামাই জহিরুল ইসলাম, এই খবর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জেকি তার বোন শিল্পী বেগম ও ভাগ্নি আনিকাকে জানালে তারা ফোনে পাল্টা জেকিকে বলেন, জহিরুলকে এখনই তোমার বাড়ি থেকে বের করে দাও। তাদের কথা মতো জহিরুলকে তার বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলার পরও সে বাসা থেকে বের না হওয়াতে জেকি তাকে গালমন্দ করেন, একপর্যায়ে জহিরুল রান্নাঘর থেকে বঁটি দা এনে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে জেকিকে, এই দৃশ্য দেখে ফেলায় একে একে তার দুই সন্তান মাহিন (১৪) ও মহিন (৭)কে হত্যা করে। পরে দালানের বাইরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় জহিরুল। ওই সময় পাশের রুমে ঘুমিয়ে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায় জেকির সাত মাসের এক কন্যাসন্তান ওজিহা। খুন করে ভোরে কড়ইকান্দি ফেরিঘাট পার হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আনিকা কৌশলে তাকে খবর দিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে রুমে আটক করে বাইরে তালা লাগিয়ে দেয়। হত্যার আগে জেকি আক্তার তার মোবাইল ফোন দিয়ে বড় বোন ও ভাগ্নির (হত্যাকারীর স্ত্রী আনিকার) সাথে কথা বলেছিল, সেই কথার সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্তকাজ শুরু করে এবং জহিরুল তার শ্বশুরবাড়িতে আটক রয়েছে এই সংবাদ পেয়ে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ জহিরুলকে গ্রেফতার করে।

নিহত জেকি আক্তারের ভাই শামীম আহমেদ বলেন, জহিরুল আমার বড় বোন শিল্পীর মেয়ে আনিকা আক্তারের স্বামী। আমার ভাগ্নির বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে সমস্যা হওয়ার কারণে আনিকা প্রায়ই চর ছয়ানী গ্রামে আমার বোনের বাড়িতে থাকত। জহিরুল এ বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করত। সোমবার সকালে আমার বোন জেকির গ্রামের বাড়িতে আসে এবং নাশতা খেয়ে চলে যায়। আবার সে রাত ৮টার দিকে আসে। সে এসেছে এ বিষয়টি তার শাশুড়ি ও বউকে জানাতে বারণ করে। জেকি বিষয়টি আমার বড় বোন ও ভাগ্নিকে জানালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে বঁটি দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যার খবরে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন সৌদি আরব প্রবাসী শাহ আলম।
সোমবার রাতে চর ছয়আনী গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী জেকি আক্তার ও তার দুই সন্তানকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানাজানি হয়েছে ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) সিরাজুল ইসলাম জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জহিরুল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং আমাদের তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। গতকাল বুধবার সকালে জহিরুল ইসলামকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।